বর্তমান সময়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে তরুণদের ক্যারিয়ার গঠনে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সঠিক দিকনির্দেশনার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। আর এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেডের বরিশাল বিভাগের সহকারী বিভাগীয় প্রধান শেখ রিজওয়ান ফিদা।
ম্যানেজমেন্ট, নেতৃত্ব, কাজের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে তরুণদের প্রতি তার বাস্তবমুখী পরামর্শ সবকিছু নিয়েই ছিল আমাদের আজকের বিশেষ সাক্ষাৎকার।
শুরুটা কোথায় রিজওয়ান ফিদার ব্যক্তিগত পথচলা?
শেখ রিজওয়ান ফিদার বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে শান্ত প্রকৃতির শহর বরিশালে। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় তিন বছর কাটান (২০১৮–২০২১)। শিক্ষাজীবন শেষে নিজের কাছে সবচেয়ে মানানসই ক্ষেত্রটিই খুঁজে পান ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম।
এই আগ্রহ থেকেই তিনি যোগ দেন দেশের স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেডে এবং বর্তমানে বরিশাল বিভাগের সহকারী বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছয় মাস ধরে তিনি বরিশালের কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন।
ম্যানেজমেন্ট সহজ না কঠিন?
বাইরের চোখে ম্যানেজমেন্টকে সহজ মনে হলেও বাস্তবে এতে রয়েছে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। রিজওয়ান ফিদা বলেন,
“ম্যানেজমেন্টের কাজগুলো যতটা সহজ মনে হয়, এর চ্যালেঞ্জগুলোই আমাকে সবচেয়ে বেশি শিখিয়েছে। কর্মী মূল্যায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এগুলোই আমার মূল আগ্রহের জায়গা। ”
তার মতে, একজন ভালো ম্যানেজারের কাজ শুধু তদারকি নয়, বরং টিমের দক্ষতা তৈরি করে তাদের দিয়ে সেরা ফলাফল বের করে আনা।
ম্যানেজমেন্টে আসার প্রেরণা
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের প্রতি গভীর আগ্রহই তাকে এই ক্যারিয়ার বেছে নিতে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতে তিনি ম্যানেজমেন্টে পিজিডি সম্পন্ন করতে চান এবং আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন।
অনুপ্রেরণা কোথায় পেলেন?
নিজের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন:
- তার রিপোর্টিং বস তথা বিভাগীয় প্রধান।
- বরিশাল ব্রাঞ্চের টিম। তাদের সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও দিকনির্দেশনাই তাকে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দেয়।
সাফল্যের পথে বাধা ও প্রচেষ্টা
রিজওয়ান ফিদা মনে করেন সাফল্যের বিতর্কহীন কোনও পথ নেই। যেকোনো অবস্থানেই কিছু বাধা থাকে, কিন্তু তিনি এখনও নিজের শেখার যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষায়:
“আমি মনে করি এখনো আমার কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি। আমি শেখার পর্যায়ে আছি, এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারব। ”
তার সাফল্যের পেছনে কার অবদান?
- তিনি খুব পরিষ্কারভাবে বলেন কথা বলেন।
- ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেড বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান
- নিজের অব্যাহত প্রচেষ্টা
এই তিনটি তার সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
কাজের ধরন : যা তাকে আলাদা করে
অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে চান না তিনি। তবে নিজের কাজের জায়গাকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। সময় ব্যবস্থাপনা এবং চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল থাকা।
সবধরনের কাজই তিনি সম্পন্ন করেন পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং ফলাফল নিশ্চিত করেই।
তার স্লোগানই বলছে সব:
“Planned Work, Proper Execution, Better Results.”
এই স্লোগানই তার পেশাদারিত্ব, চিন্তাধারা এবং কাজের প্রতি একাগ্রতার পরিচয় বহন করে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রিজওয়ান ফিদা দীর্ঘমেয়াদে ম্যানেজমেন্টে আরও ভালো অবস্থানে কাজ করতে চান। পিজিডি সম্পন্ন করে ক্যারিয়ারের আরও শক্ত ভিত তৈরি করাই তার পরবর্তী লক্ষ্য।
তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক পরামর্শ
যে তরুণরা ম্যানেজমেন্ট বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“চ্যালেঞ্জিং সময়ে দক্ষ নেতৃত্ব, সময় ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সক্ষমতা এই তিনটিই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”
তার মতে, যারা শিখতে আগ্রহী এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার জানে, তারা যেকোনো ক্ষেত্রেই সফল হতে বাধ্য।
শেষ কথা
ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেডের বরিশাল বিভাগের সহকারী বিভাগীয় প্রধান শেখ রিজওয়ান ফিদার এই সাক্ষাৎকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার এক নতুন জানালা খুলে দেয় যেখানে রয়েছে নেতৃত্ব, আত্মোন্নয়ন ও সফলতার বাস্তব পথনির্দেশনা।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঠিক দক্ষতা, পরিকল্পনা আর আপ্রাণ চেষ্টা এই তিনটি মিললেই সম্ভাবনার বিস্তৃত দরজা খুলে যায়।
এই রকম আরো ব্লগ পড়তে, ক্লিক করুন.
লেখক
লামিয়া আক্তার
ইন্টার্ন, কনটেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE
