আজকের শিক্ষার্থীরা শুধু ক্লাসরুমের মধ্যে আটকে থাকছেন না। তারা নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। পড়াশোনা এবং ব্যবসা একসাথে করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে যারা প্যাশন দিয়ে এগিয়ে যায়, তারা সময় ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ববোধ, সমস্যা সমাধান, এবং যোগাযোগ দক্ষতা শিখতে পারে।
আমরা YSSE Interview & Podcast Sub-team থেকে মাহফুজুর রহমান মানের এক সম্ভাবনাময় অতিথির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা। চলুন, তার মুখেই শোনা যাক উদ্যোক্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা ও দর্শন।
উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা
২০১৯ সালে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর, মাহফুজুর রহমানের বড়ভাই তাঁকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। ব্যবসার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। এই উৎসাহ থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ জন্মে, আর প্রথম ছোট উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভব কি?
শিক্ষার্থীদের জন্য ছোট ব্যবসা শুরু করা সম্ভব এবং কার্যকর। এটি সময় ব্যবস্থাপনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, এবং দায়িত্ববোধ শিখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ছোট ব্যবসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে, যা ভবিষ্যতের জন্য অমূল্য।
পড়াশোনা ও ব্যবসার ভারসাম্য
পড়াশোনা ও ব্যবসা একসাথে পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে ব্যবসা যদি প্যাশন হয়, শিক্ষার্থীরা সহজেই সময় পরিকল্পনা করে দুইয়ের ভারসাম্য রাখতে পারে। মূল বিষয় হলো পড়াশোনার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মনোযোগ রাখা, যাতে শিক্ষাগত ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
যেভাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছিলেন
২০২১ সালে মানুষের সমস্যার সমাধান করতে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করা হয়। প্রথম উদ্যোগ ছিল কৃষি-ভিত্তিক একটি অ্যাপ-নির্ভর স্টার্টআপ, যা কৃষকদের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করতো।
শুরুর সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থের অভাব। পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় স্টার্টআপটি বড় পরিসরে যেতে পারেনি। পরে মাহফুজুর রহমান অ্যাকুরিয়াম ফিশ ফার্মের মতো ছোট ব্যবসা শুরু করেন। পরিবারের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০০০–৩০০০ টাকা জমিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসা পরিচালনা করা হয়।
উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা
- সময় ব্যবস্থাপনা: পড়াশোনা ও ব্যবসা একসাথে সামলানোর পরিকল্পনা করা।
- যোগাযোগ দক্ষতা: ক্রেতাদের চাহিদা বোঝা ও সঠিক সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা।
- সমস্যা সমাধান: ব্যবসার পথে আসা চ্যালেঞ্জ ধৈর্য ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সমাধান করা।
- মার্কেটিং ও বিক্রয় কৌশল: পণ্য প্রচার ও ক্রেতা আকর্ষণের বাস্তব অভিজ্ঞতা।
ব্যর্থতা ও ক্ষতি মোকাবেলার কৌশল
ব্যবসায় ব্যর্থতা বা ক্ষতির মুখোমুখি হলে প্রথমে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হয়। এরপর ক্ষতির কারণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে একই ভুল এড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়। ব্যর্থতাকে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
যাদের ব্যবসা প্যাশন, তাদের অবশ্যই উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। যারা ঝুঁকি নিতে চান না বা নিশ্চিন্ত জীবন পছন্দ করেন, তাদের জন্য চাকরি একটি নিরাপদ বিকল্প হবে তবে নিজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য ব্যবসাই উত্তম।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, বেকারত্ব কমায়, স্থানীয় পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি বৃদ্ধি করে। ছোট ব্যবসাই অনেক সময় বড় ব্যবসার জন্ম দেয়। তাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তাই আমরা বলতে পারি যে,পড়াশোনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়া কেবল শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি করে না, এটি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য, এবং সংকল্প থাকলে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।
এরকম ব্লগ পড়তে এখানে, ক্লিক করুন
লেখক,
সৈয়দা ইলমুন্নাহার তাকিয়া
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট।
YSSE
