“এআই শুধুমাত্র একটা টেক না এটা সমস্যা সমাধানের জন্য একটি শক্তিশালী টুল।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আজ শুধু প্রযুক্তি নয় এটি বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধানের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই পথেই কৌতূহল থেকে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন Fatema Tuz Zohra Faria। Al/ML এর প্রতি আগ্রহ থেকেই শুরু, আর সেখান থেকেই তার যাত্রা।
আজ আমরা কথা বলেছি তার সঙ্গে—তার অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং নতুনদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে।
YSSE: আপনার AI/ML জার্নির শুরুটা কোথা থেকে, আর কোন মুহূর্তে বুঝলেন এটাই আপনার পথ?
আমার AI/ML জার্নিটা শুরু হয়েছে একটা কৌতূহল থেকে কিভাবে প্রযুক্তি দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা যায়। শুরুতে বিষয়টা ছিল এক্সপ্লোর করার মতো, কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারি যে এআই শুধুমাত্র একটা টেকনোলজি না, এটা সমস্যা সমাধানের জন্য খুবই শক্তিশালী একটা টুল। সেই জায়গা থেকেই সিদ্ধান্ত নিই আমি এআই নিয়েই কাজ করব এবং সামনে আগাবো।
YSSE: বাস্তব সমস্যায় কাজ করতে গিয়ে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন AI ব্যবহার করবেন কি করবেন না?
আমি প্রথমে সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করি। দেখি, সাধারণ লজিক দিয়ে এটা সমাধান করা সম্ভব কিনা। যদি সম্ভব হয়, তাহলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এআই ব্যবহার করি না। কিন্তু যদি দেখি সমস্যা জটিল এবং ডাটা আছে, তখন এআই ব্যবহার করার কথা ভাবি। আমার কাছে মনে হয় এআই তখনই ব্যবহার করা উচিত, যখন এটা সত্যিই প্রয়োজনীয়।
YSSE: এমন কোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন, যেখানে আপনার মডেল বাস্তবে প্রত্যাশা মতো কাজ করেনি?
হ্যাঁ, এমন অভিজ্ঞতা আছে। একটা প্রোডাকশন মডেল প্রত্যাশামতো কাজ করেনি, কারণ রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডাটা ট্রেনিং ডাটার থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। এই জায়গা থেকে বুঝতে পারি—ডাটা ড্রিফট এবং কন্টিনিউয়াস মনিটরিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মডেল বানালেই হয় না, সেটাকে নিয়মিত আপডেট ও পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
YSSE: মডেল তৈরি আর বাস্তবে ডিপ্লয় কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয় আপনার কাছে, এবং কেন?
আমার কাছে ডিপ্লয়মেন্টটাই বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। কারণ মডেল বানানোর সময় আমরা মূলত একুরেসি দেখি। কিন্তু বাস্তবে ডিপ্লয় করার সময় স্কেলেবিলিটি, পারফরম্যান্স, আর আনপ্রেডিক্টেবল ইনপুট হ্যান্ডেল করতে হয়। এগুলো একুরেসি দিয়ে মাপা যায় না, তাই এই অংশটাই বেশি কঠিন।
YSSE: আপনার কাজ কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবন বা সমাজে বাস্তব প্রভাব ফেলছে?
আমি এমন সলিউশন বানানোর চেষ্টা করি, যেগুলো মানুষের সময় বাঁচায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়াকে সহজ করে। অনেক সময় মানুষ দ্বিধায় থাকে—কি করবে, কি করবে না। আমি চেষ্টা করি এমন কিছু তৈরি করতে, যেগুলো মানুষকে সেই জায়গায় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই ছোট ছোট ইমপ্রুভমেন্টগুলোই বড় স্কেলে গিয়ে প্রভাব ফেলে।
YSSE: বাংলাদেশে কোন সেক্টরে AI সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
আমার মতে তিনটা সেক্টরে এআই সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনতে পারে— হেলথকেয়ার, এডুকেশন এবং এগ্রিকালচার। এই সেক্টরগুলোতে এখনো ডাটা পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তাই এখানে এআই অনেক বড় ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারে।
YSSE: AI কি ভবিষ্যতে সমাজে সমতা আনবে, নাকি বৈষম্য বাড়াবে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
এটা নির্ভর করে এআই কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর। সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এটি সমতা বাড়াতে পারে, আর ভুলভাবে ব্যবহার হলে বৈষম্যও বাড়াতে পারে। তাই এখানে পলিসি এবং এথিক্যাল ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ।
YSSE: যারা AI/ML শিখতে চায় কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে বুঝতে পারছে না—তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
শুরু করার জন্য আমি বলব বেসিক ম্যাথ আর পাইথন দিয়ে শুরু করুন। এরপর ছোট ছোট প্রজেক্টে কাজ করুন। খুব বেশি থিওরিতে আটকে থাকার দরকার নেই। এআই মূলত একটি প্র্যাকটিক্যাল ফিল্ড। হাতে-কলমে কাজ করলে শেখাটা অনেক দ্রুত হয়। থিওরিও দরকার, কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল কাজই আপনাকে বেশি এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আমাদের আজকের এই বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক ব্লগটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তবে এমন আরও অনুপ্রেরণামূলক গল্প, ক্যারিয়ার জার্নি এবং সৃজনশীল মানুষের অভিজ্ঞতা জানতে YSSEBLOG ওয়েবসাইট এবং আমাদের Facebook ব্লগ পেজের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ সকলকে।
এরকম ব্লগ পড়তে এখানে, ক্লিক করুন
লেখক
আহমেদ আফিফ মুরাদ
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE
