আমরা ছোট থেকেই পড়ে আসছি পৃথিবীর মোট মহাদেশের সংখ্যা ৭টি আর সেগুলো হল এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা। কিন্তু সাম্প্রতি ভূতত্তবিদের একটি আন্তর্জাতিক দল পৃথিবীর বুকে তুলে ধরলো নতুন একটি মহাদেশ জিলান্ডিয়ার মানচিত্র। যা বর্তমানে অষ্টম মহাদেশ নামে পরিচিত।
জিলান্ডিয়া মহাদেশের আরেক নাম হলো তে রিউয়া মাউয়ি। এই মহাদেশটি খোজ পাওয়া যায় সমুদ্রতল থেকে প্রাপ্ত পাথরের নমুনাকে গবেষণা করার মাধ্যমে। এছাড়াও ভূতত্তবিদরা নিশ্চিত করেন যে এই মহাদেশে রয়েছে প্রচুর পরিমান জীবাশ্ম জ্বালানি।
এই জীবাশ্ম জ্বালানির পরিমান এতই বেশি যে, ভূতত্তবিদরা মনে করেন আরো কিছু বছর পর অন্যান্য মহাদেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে এটিই একমাত্র সক্ষম অথবা একমাত্র ভরসা।
অষ্টম মহাদেশ অর্থাৎ জিলান্ডিয়া যার আয়তন ১ কোটি ৯০ লাখ বর্গমাইল প্রায় এবং যেটি অস্ট্রেলিয়ার আয়তনের সমান।
যার সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯৪ শতাংশ ভাগ স্থান পানির নিচে অবস্থিত বাকি ৬ শতাংশ হলো স্থলভাগ। এই ৬শতাংশের মধ্যে রয়েছে পাহাড়, পর্বত, উপত্যকা এমনকি আগ্নেয়গিরি সহ আরো অন্যান্য যেগুলো স্থান পেয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ নিউজিল্যান্ডের কাছে।
ভূতত্তবিদরা মনে করেন জিলান্ডিয়া সম্ভবত নিউজিল্যান্ডের নর্থ ও সাউথ আইল্যান্ড থেকে শুরু করে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, বল’স পিরামিড কিংবা নিউ ক্যালেডোনিয়া নিয়ে গঠিত।
পৃথিবীর মানচিত্রে কোন এক সময় গন্ডোয়ানা নামক সুপার মহাদেশ ছিল ধরা যায় জিলান্ডিয়া সেই সুপার মহাদেশের ই একটি অংশ ছিল এবং প্রায় ১০৫ মিলিয়ন বছর আগে জিলান্ডিয়া গন্ডোয়ান থেকে পৃথক হয়ে যায়।
আর ১৩ কোটি বছর আগে তা অ্যান্টার্কটিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া ও জিল্যান্ডিয়া আলাদা হিসেবে হয়ে যায়। যদিও তখন অস্ট্রেলিয়া ও জিল্যান্ডিয়া একে-অপরের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় ছিল।
অবশেষে প্রায় ৬ থেকে ৮ কোটি বছর আগে অস্ট্রেলিয়া জিল্যান্ডিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায়। আর তখন থেকেই জিল্যান্ডিয়া সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যেতে শুরু করে।
এছাড়াও মনে করা হয় আজ থেকে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে এক অতিমহাদেশ ছিল। কোন এক সময় সেই অতিকাটি প্রাকৃতিক দূর্ঘটনায় ভেঙে যায়।
টুকরো টুকরো হয়ে তৈরি হয় নতুন মহাদেশ। মূলত তখনই তৈরি হয় জিল্যান্ডিয়া। পরবর্তীতে প্রকৃতির বিপর্যয়ের কারণে এর সিংহ ভাগ পানির নিচে চলে যায় আর জেগে থাকে কিছু ছোট ছোট দ্বীপ তারই একটি অংশ নিউজিল্যান্ড।
বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, এই অষ্টম মহাদেশের বয়স কম করে ১০০ কোটি বছর।
সালটি ১৬৪২, যা আজ থেকে ৩৭৫ বছর আগে, আবেল টাসমান নামক এক ডাচ নাবিক সর্বপ্রথম জিলান্ডিয়ার আবিষ্কার করেছিলেন। তবে তিনি সঠিকভাবে এইজায়গাটি খুঁজে পাননি কিন্তু সন্ধান দিয়েছিলেন তাসমান মহাদেশের। এরপর ভূতত্তবিদরা ২০১৭ সালে জিলান্ডিয়া আবিষ্কার করেন তারই ৬ বছর পর ২০২৩ সালে আঁকা হয় এর সীমারেখা যা প্রায় ৫০ লাখ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
ভুতত্তবিদগণের একটি দল ২০ বছর ধরে চেষ্টার পর জিলান্ডিয়ার মানচিত্র আঁকতে সক্ষম হন যার কাজ সম্প্রতিই শেষ হয়েছে। এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নিক মর্টিমার নামক এক ভূতত্তবিদ। তবে জানা যায় ভূকম্পনবিদগণও প্রত্যক্ষভাবে ভূতত্তবিদদের মানচিত্রটি আঁকতে সাহায্য করেছিলেন।
ফিজ ডট ও আরজি নামক সংবাদ সংস্থাটির মাধ্যমে আরো জানা যায় যে টেকটোনিক্স জার্নালে জিলান্ডিয়ার মানচিত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন জিলান্ডিয়ার পাথর নিয়ে তারা চেষ্টা করছেন পাথর ছেঁচে জিলান্ডিয়ার পুরোনো ইতিহাস খুঁজে বের করতে।
এরকম আরো ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন।
লেখিকা :
মৌসুমী আক্তার রিতু
ইন্টার্ন,
কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট,
YSSE
