সোনালী চুলের ছেলেটা, সাদা রঙের ছোট একটা কুকুর নিয়ে ছুটে চলছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। রোমাঞ্চকর সব অ্যাডভেঞ্চার করে বেড়ায় সে! ভয়ংকর লোকদেরকে নাকানিচুবানি খাওয়ানো তার জন্য কোন ব্যাপারই না! সে হলো আমাদের সবার প্রিয় চরিত্র টিনটিন। ছোট বেলায় বা অল্প বড় হয়ে আমরা সবাই তার সাথে পরিচিত হয়েছি। টিনটিনকে নিয়ে লেখা কমিক বই গুলোতে আমরা বুঁদ হয়ে থাকতাম। শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন শান্তিই নেই! নানা ব্যস্ততায় টিনটিনকে হয়তো আমরা ভুলতে বসেছি। চলুন, টিনটিনের রাজ্য থেকে আরো একবার ঘুরে আসি। আর কিছু না হোক, কিছুটা স্মৃতি রোমন্থন ত হবে!

 

শুরুটা হলো কীভাবে? 

  ১৯২৯ সালের ১০ জানুয়ারি বেলজিয়ান সংবাদপত্র ল্য ভাঁতিয়েম সিয়েক্‌ল এর শিশুদের সংস্করণ ল্য প্যতি ভাঁতিয়েম-এ প্রথম টিনটিনের কমিকস প্রকাশিত হয়। কমিকসটি লেখেন বেলজীয় শিল্পী জর্জ রেমী। কমিক বইগুলো তিনি রেমি অ্যার্জে (বাংলায় যাকে আমরা হার্জ নামে জানি) ছদ্মনামে লিখতেন। সোভিয়েত দেশে টিনটিন দিয়ে শুরু করেন হার্জ, তারপর একাধারে মোট ২৩টি কমিকস প্রকাশ করেন তিনি। বই প্রকাশ এখানেই থেমে থাকেনি, ১৯৮৩ সালে হার্জ মারা যাওয়ার পর বর্ণশিল্প রহস্যহাঙ্গরহ্রদের বিভীষিকা নামে আরো দুটি কমিক বই প্রকাশিত হয়। টিনটিনকে নিয়ে লেখা হার্জের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য বই হলো কঙ্গোয় টিনটিন, আমেরিকায় টিনটিন, ফারাওয়ের চুরুট, কৃষ্ণদ্বীপের রহস্য, কাঁকড়া রহস্য, বোম্বেটে জাহাজ, লাল বোম্বেটের গুপ্তধন, কালো সোনার দেশে, পান্না রহস্য, লোহিত সাগরের হাঙর, তিব্বতে টিনটিন, বিপ্লবীদের দঙ্গলে প্রভৃতি। 

 

  টিনটিন প্রকাশিত হবার পর থেকেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বড়রাও কমিকস গুলো পড়ার লোভ সামলাতে পারতো না। একে একে ৫০ টির অধিক ভাষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বইগুলো অনূদিত হয়। ভারতের আনন্দ পাবলিশার্স বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে। পুরো বিশ্বে সবমিলিয়ে ২০কোটি এর বেশি বই বিক্রি হয়। 

 

মজার সব চরিত্র গুলো!

  টিনটিনের কমিক বইগুলোর চরিত্র গুলো সব অদ্ভুত সুন্দর, কেউ বুদ্ধিমান, কেউ বোকা, কেউ গম্ভীর, কেউ রাগচটা! টিনটিন নিজে খুব বুদ্ধিদীপ্ত, অপরিসীম সাহস তার, বিপদে মাথা ঠান্ডা রেখে খুব সহজেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। টিনটিনের সবসময়ের সঙ্গী হলো কুট্টুস ;ফক্স টেরিয়ার জাতের কুকুর, সেও কম বুদ্ধিমান নয়! মনিবকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে বা শত্রুদের ঘায়েল করতে সেও মনিবের সমান। কুট্টুসের মজাদার সব মন্তব্য যেগুলো সাধারণত ক্লাউডের মাধ্যমে দেখানো হয়, সেগুলো কমিকে অন্য মাথা যোগ করে। টিনটিনের বন্ধু ক্যাপ্টেন হ্যাডক, অবসরপ্রাপ্ত নাবিক, পাগলাটে কিসিমের লোক, অল্পতেই রেগে গিয়ে কিম্ভূতকিমাকার গালাগাল শুরু করে দেন।

 

 আরো রয়েছে চমৎকার কিছু প্বার্শচারিত্র। প্রতিভাবান অথচ কানে খাটো প্রফেসর ক্যালকুলাস, তিনি এমন সব অাবিষ্কার যে পৃথিবীর বাঘা বাঘা ডাকাতরা উনার পিছনে লেগে যান। জমজ দুই গোয়েন্দা জনসন ও রনসন, বোকার হদ্দ, ঝামেলা পাকানো যাদের কাজ। মিলানের কোকিলকণ্ঠী গায়িকা বিয়াংকা কাস্তাফিওর, টিনটিনকে নানাভাবে সাহায্য করেন তিনি। আরো রয়েছে ছোট্ট ছেলে আবদুল্লাহ, জেনারেল আলকাজার বা খলনায়ক রাস্তাপোপোলুসের মত লোক!

 

শুধু কমিকস নয়, সিনেমাতেও!

  মুভি ও নাটকেও দেখা গেছে টিনটিনকে। কখনো লাইভ অ্যাকশন, কখনো অ্যানিমেটেড রুপে। উল্লেখযোগ্য মুভি গুলোর মধ্যে অন্যতম দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব টিনটিন  ২০১১ সালে মুভিটি মুক্তি পায়। অ্যানিমেটেড মুভিটি পরিচালনা করেন স্টিভেন স্পিলবার্গদ্য ক্র্যাব উইথ দ্য গোল্ডেন ক্লজ, দ্য সিক্রেট অব দি ইউনিকর্নরেড রাখামস ট্রেজার কমিক গুলো অবলম্বনে মুভিটির স্ক্রিপ্ট লিখছেন স্টিভেন মোফাট, এডগার রাইটজো কর্নিশ। মুভিতে টিনটিন চরিত্রে অভিনয় কণ্ঠ দিয়েছেন জেমি বেল। মুভিটি বের হবার পর বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

 

 টিনটিন ছেলে বুড়ো সকলের পছন্দের একটি চরিত্র। সে অ্যাডভেঞ্চারের ছলে গিয়েছে আফ্রিকার ঘন জঙ্গলে, অতল সমুদ্রে, মরুভূমিতে, চাঁদে এমনকি ভারতবর্ষেও! জট খুলত নানা সমস্যার। ১৯ বছর বয়স থেকে সে তার যাত্রা শুরু করেছিলো, সবগুলো অভিযানে বয়স ১৯ বছরেই আটকে ছিলো! শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তারপর টিনটিনের আবেদন কমেনি এক বিন্দু পরিমাণও। এ আবেদন কমবে না কখনোই। চিরসুবজ থাকুক আমাদের পছন্দের টিনটিন।

 

এরকম আরো ব্লগ পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

 

লেখক, 

খায়রুল ইসলাম শুভ

ইন্টার্ন,

কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট 

YSSE