যখন অধিকাংশ মানুষ ব্যর্থতার শিকার হয়,তখন তারা হাল ছেড়ে দেয়, কিন্তু ভালো উদ্যোক্তারা কেবল ব্যর্থতাকে একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করে এবং এটিকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যায়।

– ট্রিপ অ্যাডলার

উদ্যোক্তা হতে গেলে অভিজ্ঞতা কিংবা বয়স কোনটাই খুব বেশি প্রয়োজন পড়ে না। শুধু যেটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে উদ্দীপনা। কিছু করার ইচ্ছা ।

তরুণ উদ্যোক্তা পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ হত্যকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তার হত্যাকাণ্ডের পরে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা হয়েছে । এর আগেও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে বিশ্ব দরবারে নিজেদের সুনাম টিকিয়ে রেখে এখনো যারা সফল এমন কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে  দেওয়া হলো। আমাদের ১ম পর্বের শেষ অংশ আজ তুলে ধরা হলো-

 

৬. পিট ক্যাশমোর

প্রতিষ্ঠাতা, ম্যাশেবল 

২০০৫ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে  পিট ক্যাশমোর ম্যাশেবল প্রতিষ্ঠা করেন। ম্যাশেবল মূলত একটি ডিজিটাল মিডিয়া ওয়েবসাইট। বিশ্বের বিনোদন দুনিয়ার প্রতিদিনের খবর ও বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খবরের একটি ওয়েব পোর্টালও বলা যেতে পারে ম্যাশেবলকে। দিনকে দিন তরুণদের মধ্যে এটির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়নের মত মানুষ এই সাইটটিকে ভিজিট করেন। ম্যশবলের এই সফল প্রতিষ্ঠাতার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার। 

 

৭. জন হুইটলি

প্রতিষ্ঠাতা, ডেইলিবুথ 

ফটো আপলোডের ওয়েবসাইট  “ডেইলিবুথ”। ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেসের কারণে অল্প দিনেই জনপ্রিয়তা লাভ করে এই ওয়েবসাইটি। 

এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন জন হুইটলি। ২০০৯ সালে যখন তিনি ডেইলিবুথ প্রতিষ্ঠা করেন তখন তাঁর বয়স ছিলো মাত্র ২১ বছর। 

তিনিই ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রথম ফটো ব্লগিংয়ের সূচনা করেন। ২০১৪ সালে ডেইলিবুথ বন্ধ হয়ে গেলেও সেই সময়ে ওয়েবসাইটটির মূল্য ছিলো প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারের মত।  

 

৮. ব্লেইক রস

প্রতিষ্ঠাতা, মজিলা ফায়ারফক্স 

পুরো দুনিয়াতে যখন ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার আর গুগল ক্রোমের রাজত্ব চলছে তখন ব্লেইক রস মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০০৪ সালে মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার তৈরী করেন। 

প্রায় এক যুগ পরে এসেও ফায়ারফক্স তাঁর নিজ রাজত্ব ধরে রেখেছে। ২০১২ সালের জরিপ মতে, ব্লেইক রসের সম্পদের পরিমাণ ১৫০ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার। 

 

৯.রিচার্ড লুডলো

উদ্ভাবক, অ্যাকাডেমিক আর্থ 

২০০৯ সালে রিচার্ড লুডলো প্রতিষ্ঠা করেন অলাভজনক সংস্থা “অ্যাকাডেমিক আর্থ ডট অর্গ”। এই সংস্থাটির উদ্দেশ্য হলো – সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কম খরচে ভালো মানের শিক্ষার যোগান দেওয়া। 

বর্তমানে এটি বিশ্বের প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে বিনা মূল্যে বিভিন্ন অনলাইন কোর্স করিয়ে আসছে। 

রিচার্ড তাঁর “অ্যাকাডেমিক আর্থ ডট অর্গ” এ মনোযোগী হওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর বাইশ বছর বয়সে একটি পূর্ণকালীন চাকুরী ও একটি খ্যাতনামা কলেজে এমবিএ-র ভর্তি বাতিল করেন। তিনি প্রমাণ করেছেন উদ্যোক্তা মানেই শুধু আর্থিক স্বার্থ উদ্ধার নয়। 

 

১০. ফ্রাশার দোহার্টি

প্রতিষ্ঠাতা, সুপার জ্যাম

জ্যাম-জেলির বিখ্যাত স্কটল্যান্ডভিত্তিক ব্র্যান্ড “সুপার জ্যাম”। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফ্রাশার দোহার্টি এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন।

তিনি ১৪ বছর বয়সেই গৃহজাত বিভিন্ন উপাদান থেকে স্বাস্থ্যসম্মত জ্যাম-জেলি প্রস্তুত করা শেখেন। তখন তিনি সেগুলোকে ওয়েটরোজের দোকানে বিক্রি করতেন।

পরবর্তীতে তিনি ব্যবসার প্রসার ঘটান এবং “সুপার জ্যাম”কে একটি ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। “সুপার জ্যাম” এর বর্তমান সম্পদ মূল্য প্রায় দুই মিলিয়ন ডলারের মত।

 

উদ্যোক্তা হতে গেলে অভিজ্ঞতা কিংবা বয়স কোনটাই খুব বেশি প্রয়োজন পড়ে না। শুধু যেটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে উদ্দীপনা নতুন কিছু করার ইচ্ছা । 

এই ১০ জন উদ্যোক্তা যা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তাই আর দেরি কেন? আপনিও নেমে পড়ুন তরুণ উদ্যোক্তার এই উদ্যোগী প্রতিযোগিতায়। নিজের স্বপ্নকে কল্পনায় আবদ্ধ করে না রেখে এখনি নেমে পড়ুন আপনিও ।

 

এরকম আরো ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন। 

লেখিকা,

ফারিহা আলিফ

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট 

YSSE