জীবন স্রোতের প্রবাহে ভেসে যায়। সেই জীবনের রং, আচার, সংগ্রাম এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম। আমাদের শিক্ষা, জীবন চর্চা, দার্শনিকতা, জীবন বোধ, বেড়ে ওঠা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা রকম। যাদের পারিবারিক জীবনের লক্ষ্য থাকে শেখার শিখরে পৌঁছানো এবং জীবনে সবুজে’র সাম্রাজ্যের হাতছানি জাগিয়ে তোলা – তাঁরাই তাদের জীবনে পরিশ্রম এর সঙ্গে জীবনচর্চা এবং পরিস্থিতি গুলোতে মানিয়ে নেয়া আস্বাদন করেন।
“কাজী তাফসিরুল ইসলাম” স্যার হচ্ছেন এমন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র যিনি দেশের অন্যতম সেরা বিজনেস স্কুল “নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়” এ শিক্ষকতা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভেতর থেকে তারা’র জল্পনা আহরণ করছেন।
জীবনের গল্প ও পথচলা
তিনি ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, কিন্তু কোন কারণবশত এসএসসিতে A+ পাননি এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তির সময় নিজের লক্ষ্য খুঁজে পাচ্ছিলেন না, সেসময় তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি’র সি ইউনিট অর্থাৎ এফবিএস এ ১,১২৪ তম পজিশন অর্জন করেছিলেন তবে সেখানে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি,
তিনি বিভিন্ন ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন, মার্কেটিং ও প্রোমোশন শিখেছেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। লেখালেখির প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল।
উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি একাডেমিয়ায় আসেন। শিক্ষা খাতে এসে লেখালেখিকে আরও উন্নত করেন। তিনি প্রচুর লিখতে ভালোবাসেন। তাই তাঁর অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে লিখেছেন –
✔ ৭টি বই
✔ ১০০–১৫০টি গবেষণা পত্র
BRAC ও ULAB-এ তিনি শিক্ষক হিসেবে লেকচার দিয়েছেন। তাছাড়াও বর্তমানে তিনি AI শেখার সাথেও যুক্ত আছেন বিভিন্ন এডটেক প্ল্যাটফর্ম এর সঙ্গে।
“মানুষ যদি আরেকজন মানুষের চোখ দিয়ে জীবন দেখার ক্ষমতা রাখেন, তাঁর পরিস্থিতি কে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন তাহলে জীবন সহজ না হলেও জীবনের প্রতিকূলতা কমে যাবে” বলে তিনি মনে করেন এবং এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে আলাদা করেছে।
ক্যারিয়ার গড়নে দক্ষতা
বর্তমানে মানুষের জীবন যাপনে গুরুত্বপূর্ণ যেসব সফ্ট এবং হার্ড স্কিলস রয়েছে:-
✔যোগাযোগ দক্ষতা
✔ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন
✔ AI শেখা
✔ গবেষণা ও লেখালেখি
কিন্তু এই দক্ষতা গুলো আয়ত্তে আনার কার্যকর কৌশল কী হতে পারে?
চলুন স্যার এর উত্তর থেকে তা আমরা জেনে নেই।
একজন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এর মাধ্যমে কীভাবে নেটওয়ার্কিং ধরে রাখা যায়, কতটুকু প্রফেশনালী কমিউনিকেট করতে হবে, সাব্জেক্ট নলেজ কতটুকু এসেনশিয়াল এগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর জীবনের শীর্ষ ৩ অগ্রাধিকার
১) মানসিক ও আত্মিক শান্তি
২) শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য
৩) পরিবার
মন সুস্থ থাকলে কাজে মনোনিবেশ করা সহজ, শরীর ভালো থাকলে কায়িক পরিশ্রম করা আরামের এবং পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক এনে দেয়া জীবনে স্বস্তি। এই সবকিছুর সম্মেলনে হওয়া যায় অবিলম্বে ক্যারিয়ার মুখি।
তাঁর পরামর্শ সকল জ্ঞানপিপাসুদের জন্যে
✔ জীবনে মেন্টর ও গাইডেন্স খুব গুরুত্বপূর্ণ
✔ নিজের আগ্রহ চিহ্নিত করতে হবে
✔ প্যাশনের সাথে লেগে থাকতে পারলে অবশ্যই সাফল্য সাধন করা সম্ভব
✔ পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা সমানভাবে সকল পেশায় গুরুত্বপূর্ণ
যেই প্রফেশনেই মানুষ যান না কেনো মেন্টরশীপ নির্দ্বিধায় কাম্য সফলতার জন্যে, বিস্তরভাবে বিষয়টি আয়ত্তে আনার জন্যে এবং ফলাফল যাই আসুক একটি কার্যকরী সিস্টেম মেনে সবসময় লেগে থাকতে হবে। পৃথিবী ক্রমান্বয়ে বদলাবে এবং আপডেটেড সব স্কিল লাইফ লং গ্র্যাজুয়্যালী শিখতে হবে।
AI ও শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত
✔ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে AI পলিসি থাকা প্রয়োজন
✔ আমাদের দেশে AI এখনো পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না
✔ কারিকুলামে AI ব্যবহার এর নিয়মাবলি রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণিকক্ষে “Responsible AI Usage” শেখানো নিঃসন্দেহে কার্যকর করা উচিত।
AI এর যুগে এটার ব্যবহার অবশ্যই মানুষ করবেন নয়তো পিছিয়ে পড়বেন তবে নিজের সৃজনশীলতাকে ও প্রাধান্য দিতে হবে। তাই AI এর সাহায্য নেয়া, AI এর ধারনা নিয়ে তারপর তা ব্যবহার করতে হবে।
অর্থাৎ আমরা বলতেই পারি, জীবনে লেগে থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সিস্টেম ফলো করাও অনস্বীকার্য এবং এসকল জিনিসের সম্মেলনে’র ভেতর দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নিজের প্রতিভা কে। যেই বিষয় এর পুর্নাঙ্গ উপলব্ধি আমরা পাই স্যার এর জীবন থেকে।
তাই একটি উক্তি দিয়ে আমরা শেষ করতে পারি,
“প্রতিভা আমাদের হাতে নেই, কিন্তু নিষ্ঠার সঙ্গে লেগে থেকে সফলতা আহরণ আমাদের ওপরই নির্ভর করছে”
এরকম আরো ব্লগ পড়তে এখানে, ক্লিক করুন।
লেখক
তাহসিন তাকিয়া হক
ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট,
YSSE
