গত এক দশক ধরে ব্যবসায় তরুণদের পদচারণা ইতিবাচক হারে বেড়ে চলছে । এর প্রধান কারণ তরুণরা বর্তমানে নিজ নিজ চিন্তা-ভাবনাগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। আরেকটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো- ইন্টারনেটের প্রসার। ইন্টারনেটের প্রসারের কারণে মানুষ খুব সহজেই তাদের চিন্তা-ভাবনাগুলোকে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে পারছেন। এর এজন্যই বর্তমানে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা তৈরী হচ্ছে। অন্য ভাবে বলা যায়, তরুণদের জন্যে সময়ের সদ্ব্যব্যবহারেরও একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করে যাচ্ছেন। এছাড়া তারা প্রমাণ করেছেন, উদ্যোক্তা হতে গেলে বয়স কোন বিষয় নয়। শুধু সঠিক পরিকল্পনা, অভিনব আইডিয়া, দৃঢ় মনোভাব আর নতুন কিছু সৃষ্টির নেশা প্রয়োজন।
আজকে আমরা ঠিক এমনই ১০ জন উদ্যোক্তার কথা জানবো, যারা খুব কম বয়সেই সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রমাণ করে নিজেদেরকে তরুণদের রোল মডেল হিসেবে তৈরী দাঁড়া করিয়েছেন।
১. মার্ক জুকারবার্গ
প্রতিষ্ঠাতা | ফেসবুক
শুরুতেইও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জুকারবার্গের কথা। তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ঠিক তখন থেকেই ফেসবুক জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ফেসবুক বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে অবস্থান করে নেয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই ফেসবুকের সদর দপ্তর রয়েছে। ফেসবুকের সফলতা জোরেই মার্ক জুকারবার্গের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭২.৩ বিলিয়ন ডলার।
২. ম্যাট মুলানভেগ
প্রতিষ্ঠাতা | ওয়ার্ডপ্রেস
২০০৫ সালে ম্যাট মুলানভেগ বিশ বছর বয়সে “অটোম্যাটিক” প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি “অটোম্যাটিক” থেকেই ওয়ার্ডপ্রেসের সূচনা করেন।
ওয়ার্ডপ্রেস মূলত ব্লগিং প্ল্যাটফর্মের জন্যে ব্যবহৃত একটি কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। মাত্র এক যুগের ব্যবধানে বর্তমানে “ওয়ার্ডপ্রেস” বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হয়ে উঠেছে।
পুরো ইন্টারনেট দুনিয়ার শতকরা ৯০ ভাগ ওয়েবসাইটই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরী। ম্যাট মুলানভেগের ব্যাপারে অন্যতম রোমাঞ্চকর তথ্য হলো- অন্যসব সফল উদ্যোক্তার মত তিনিও কলেজ ড্রপআউট ছিলেন।
ওয়ার্ডপ্রেসের সফলতা আজ তাঁর সম্পদের পরিমাণকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে।
৩. ক্যাথরিন কুক
প্রতিষ্ঠাতা | মিটমি ডট কম (আগের পরিচিত ছিলো মাই ইয়ার বুক ডট কম নামে)
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্যাথরিন কুক একটি ডিজিটাল বর্ষপঞ্জিকা করার পরিকল্পনা হাতে নেন। সাথে নেন তাঁর বড় ভাই ডেভ কুককে। দুইজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় হয় “মাই ইয়ার বুক” যা বর্তমানে মিটমি ডট কম হিসেবেও পরিচিত। যদিও পরবর্তীতে বর্ষপঞ্জিকার পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই সরে আসেন ক্যাথরিন কুক ও ডেভ কুক।
সময়ের পরিক্রমায় তারা “মাই ইয়ার বুক” কে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস হিসেবে তৈরী করেন। ২০১২ সালে নাম পরিবর্তন করে “মিটমি ডট কম” দেন। তবে টিনএজ বয়সে তাদের ঐ পরিকল্পনাটির জোরেই তারা হয়ে যান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ধনকুব।
৪. ডেভিড কার্প
প্রতিষ্ঠাতা | টাম্বলার
২০০৭ সালে ডেভিড কার্প প্রতিষ্ঠা করেন টাম্বলার। টাম্বলার প্রতিষ্ঠার সময় ডেভিডের বয়স ছিলো মাত্র ২১ বছর। টাম্বলার হলো ক্ষুদ্র-ব্লগিং ওয়েবসাইট যেখানে ইউজাররা ক্ষুদ্র পরিসরে ব্লগ খুলতে পারেন।
২০১৩ সালে টাম্বলার মাইক্রোসফটের অধীনে চলে যায়। কিন্তু তারপর প্রায় এক দশক পরে এসে এখনো অনলাইন কমিউনিটিতে টাম্বলার নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। যার বদৌলতে ডেভিড কার্পের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ ডলার।
৫. বরুণ আগারওয়াল
তরুণ উদ্যোক্তা | ফিল্ম মেকার, মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক
বরুণ আগারওয়াল একজন ভারতীয় তরুণ উদ্যোক্তা, ফিল্ম মেকার, মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক। তিনি মাত্র ২৫ বছর বয়সে “How I Braved Anu Aunty and Co-Founded A Million Dollar Company” নামে একটি উপন্যাস লেখেন। উপন্যাসটি মূলত লিখেছিলেন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্যে। উপন্যাসটি পুরো ভারতে বিপুল সাড়া ফেলে। এই বইটি ২০১২ সালে “ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল বেস্ট সেলার” নির্বাচিত হয়। পাশাপাশি অ্যামাজন ইন্ডিয়ার টপ ফাইভ বেস্ট সেলড বুকের লিস্টে চলে আসে। এছাড়াও এই কাহিনী অবলম্বনে বলিউডেও ছবি নির্মাণ করছেন দঙ্গল খ্যাত পরিচালক নিতেশ তিওয়ারী। এছাড়াও তিনি এই উপন্যাস লেখার আগে, মাত্র ২১ মছর বয়সে অস্কার বিজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রেহমানের সাথে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন মুম্বাই ভিত্তিক ব্যান্ডদল “পেন্টাগন” এর একটি মিউজিক ভিডিওতে। বর্তমানে ভারতের শীর্ষ ১০ উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনি একজন।
একজন সফল উদ্যোক্তা সবসময় পরিবর্তনের জন্য কাজ করে, সুযোগের অনুসন্ধান করে এবং প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগায়। যতই বাধা বিপত্তি আসুক না কেন একজন উদ্যোক্তার পথ চলায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আত্মবিশ্বাসের সাথে থাকা এবং সেই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখা ৷ নিজের আত্নবিশ্বাসে অবিচল থেকে নিজেকে উন্নতির শীর্ষে পৌঁছে নেয়া।
এই ব্লগের পরবর্তী অংশ পড়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকার আহবান জানিয়ে শেষ করছি আজকের ব্লগটি।ধন্যবাদ।
আরো ব্লগ পড়তে, এখানে ক্লিক করুন.
লেখিকা
ফারিহা আলিফ
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE
