আমাদের চারপাশে আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে আমাদের আশে পাশের অথবা আমাদের পরিবারের বয়স্করা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ডায়েবেটিস রোগীদের প্রতিদিনকার জীবনযাত্রা খুব নিয়মমাফিক উপায়ে মেনে চলতে হয়।
আমাদের শরীর যখন সঠিকভাবে ইন্সুলিন নিঃসরণ করে রক্তের শর্করার মাত্রা অর্থাৎ গ্লুকোজ এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে তখন সেই অবস্থা কে বলা হচ্ছে ডায়াবেটিস। শরীরের অগ্নাশয় যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন হরমোন উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয় অথবা উৎপাদনকৃত ইনসুলিন শরীর যদি কার্যকর ভাবে ব্যবহার করতে না পারে তখন রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
অগ্নাশয় থেকে নির্গত ইনসুলিন শরীরে উপস্থিত গ্লুকোজকে ভেঙে শক্তিতে রূপান্তর করে, যার কারনে আমরা কাজ করার শক্তি পেয়ে থাকি। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের পরিমাণ যেরকম ক্ষতি বয়ে আনতে পারে ঠিক একই ভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলেও শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের মতে, বাংলাদেশে আনুমানিক ৮.৪ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এটি প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৮.৪% ( ২০-৭৯ বছর বয়সী) এর সমতুল্য। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২০৩০ সাল নাগাদ ১৩.৩ মিলিয়ন এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ২০.৩ মিলিয়নে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদি আমাদের পরিবারের অথবা আমাদের কারো ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাহলে কিভাবে আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী রোগটির সাথে নিজের জীবনকে মানিয়ে চলতে পারব যাতে সহজেই জীবনের বাকি সময়টুকু আমরা কাটাতে পারি তা নিয়েই আলোচনা করা করব :
- সুষম ডায়েট মেনে চলুন এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন :
আপনার স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীর পরামর্শ অনুযায়ী আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষন করুন। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ আপনাকে বুঝতে সহায়তা করে যে আপনার শরীরে বিভিন্ন খাবার এবং ওষুধগুলো সঠিক ভাবে কাজ করছে কি না। যার ফলে আপনি আপনার ডায়াবেটিস আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন।
একটি সুষম ডায়েট মেনে চলার চেষ্টা করুন প্রতিদিনকার খাদ্যাভাসের মধ্যে শস্য, ফলমূল, শাকসব্জী, চর্বিযুক্ত প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন। চিনিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
- প্রতিদিন ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজের শরীরকে সচল রাখুন :
আপনার রুটিনে নিয়মিত শরীর চর্চা অন্তর্ভুক্ত করুন। হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে এবং সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন :
সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের ওজন স্বাস্থ্যকর সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে পারে এবং ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।
- নিয়মিত পায়ের যত্ন নিন : ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের যত্ন খুব ভালোভাবে নেওয়া লাগে। কোথাও কোনো কাটা, ঘা বা সংক্রমণ দেখা দিলে তার যত্নে বিশেষ মনোযোগ দিন। প্রতিদিন আপনার পা পরীক্ষা করুন এবং পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, আরামদায়ক এবং নমনীয় জুতা পরুন। যদি আপনি কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তবে অবিলম্বে আপনার স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীর সাথে পরামর্শ করুন।
- হাইড্রেশন এবং চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করুন :
সারা দিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে নিজের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন এবং কোমল পানীয়, যাতে প্রচুর পরিমাণ সুগার আছে তা গ্রহণে বিরত থাকুন।
“ডায়াবেটিস” এই একটি রোগ থেকে আমাদের শরীরে আরো বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব।
ডায়াবেটিসের সাথে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্যকর। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনি একটি প্রাণবন্ত এবং পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারবেন না। আপনার দৈনন্দিন রুটিনে উপরোক্ত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো অন্তর্ভুক্ত করে, সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার জীবন পরিচালনা করতে পারেন।
দৈনন্দিন জীবনে এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে খুব সহজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, প্রতিদিন নেওয়া ছোট ছোট পদক্ষেপগুলি আপনার স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে পারে।
আরও ব্লগ পরতে এখানে ক্লিক করুন।
লেখিকা
জান্নাতুল আফিয়া প্রিয়া
ইন্টার্ন, কনটেন্ট রাইটিং বিভাগ, YSSE
