একজন মানুষ হঠাৎ করে যেমন কোনো অভ্যাস ছেড়ে দিতে পারে না, তেমনি হঠাৎ করে কোন অভ্যাস তৈরিও করতে পারে না। অভ্যাস তৈরির জন্য চাই সময় ও ধৈর্য। কোন মানুষের মাঝে বড় কোন পরিবর্তনের কারণ বের করতে গেলে দেখা যাবে অনেকগুলো ছোট ছোট কারণ বের হবে, যার ফলে ওই মানুষের মাঝে বড় পরিবর্তন আসবে৷ বর্তমান সময়ে একটি ব্যাপার খুবই লক্ষ্যণীয় যে আমরা দিনকে দিন যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ছি । এই যুগে এসে যন্ত্র ছাড়া চলাও কঠিন। তবে সবকিছুু ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা মানুষেরা সবসময় একটু ভালো থাকতে চাই কিন্তু সেই ভালোটা কিসের মাঝে নিহিত আছে তা বের করতে পারি না। দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের কাজকর্মের একঘেয়েমিতা যেনো আমাদের পিছু ছাড়ছেই না। প্রাত্যহিক জীবনে ছোট ছোট অভ্যাস তৈরির মাধ্যমে আপনি আপনার মাঝে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন যার ফলে একদিকে আপনার স্বাস্থ্য ও মন যেমন  সুস্থ থাকবে তেমনি বিভিন্ন কাজে উৎসাহিত হতে পারবেন। দশটি ছোট ছোট অভ্যাস যা আপনি আজকে থেকেই তৈরি করার চেষ্টা করতে পারেন : 

১. সকালে ঘুম থেকে উঠা:

বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ রাতজাগে ও সকালে ঘুম থেকে দেরিতে উঠে। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার প্রয়োজনীয়তা “Early to bed,early to rise, makes a man healthy, wealthy and wise”

– এই লাইনটির মাঝে নিহিত আছে। আপনি যদি সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে পারেন তবে আপনার কাজ করার জন্য সময় বেশি পাবেন। যদিও এ  অভ্যাসটি করতে সময় বেশি লাগবে তবে একবার রপ্ত করতে পারলে আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন বেশি।

২. পর্যাপ্ত পানি পান

পানির অপর নাম জীবন। পর্যাপ্ত পানির অভাবে বিভিন্ন ধরনের অসুখের সৃষ্টি হয়। পানি পান করার ফলে আমাদের দেহ যেরকম সুস্থ থাকবে তেমনই ত্বকে লাবণ্যতা বজায় থাকবে। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার পানি পান করা উচিৎ। পানি পানের অভ্যাসটি আপনাকে ধীরে ধীরে আয়ত্ব করতে হবে।

৩. প্রাত্যহিক দিনের কর্মতালিকা

আপনি কাজ করতে চেয়েও কাজ সময়মতো শেষ করতে পারেন না। আপনি সকালে উঠেই ছোট করে লিখে ফেলুন ঠিক কী কী কাজ করতে চান আজকে। দেখবেন দিনশেষে আপনার অনেক কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।

৪. স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকা

কোন কাজ ছাড়াই আপনি শুধু শুধু ফোন স্ক্রল করছেন এটা প্রায়ই হতে দেখা যায়। সীমিত ব্যবহার করে ফোন দূরে রাখার চেষ্টা করুন এতে করে আপনার মাঝে অনেকটা পরিবর্তন টের পাবেন।

৫. পরিবারকে সময় দেওয়া

আধুনিকতার এই যুগে আমাদের পরিবারকে সময় দেওয়ার ফুসরতটুকু নেই। আপনি যদি বাসায় থাকেন তবে আপনার পরিবারের সদস্যের সাথে আড্ডা দিতে পারেন বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনার মতামত ও অন্যদের মতামতগুলো শুনতে পারেন। আপনি যদি বাসা থেকে দূরে অবস্থান করেন তাহলেও ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা বা নিজ থেকে কল করে কথা বলতে পারেন এতে করে আপনার মাঝে পরিবর্তন সৃষ্টি হবে।

৬. নিজের জন্য অন্তত ১০মিনিট

সারাদিন ব্যস্ততায় কাটাতে কাটাতে অনেকেই ভুলে যান আপনি কী চাইছেন বা আপনার পরবর্তী ধাপ কী। এজন্য নিজেকে ও নিজের মনকে জানতে শান্ত হয়ে প্রতিদিন নিজেকে ১০মিনিট সময় দিন এবং ভাবুন সারাদিন কী কী করেছেন, আপনার মন কী চায়।

৭. মনোযোগ দিয়ে খাবার খাওয়া

আমরা প্রায় সবসময়ই খাবার খাওয়ার সময়টিতে টিভি অন করে বা ফোন চালাতে চালাতে খাবার খাই। এতে করে অনীহা তৈরি হয়। খাবার মনোযোগ দিয়ে খাওয়া অভ্যাস করুন। 

৮. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া

নিজেদের বিভিন্ন পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে হয় অনেক সময় অনেক চাপ থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে মাথা অনেকসময় কাজ করে না। ৫ মিনিট সময় নিয়ে চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন এতে করে আপনার মন যেরকম স্থির হবে তেমনই কাজের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার হার বাড়বে।

৯. নিজের শখের প্রতি যত্নবান হওয়া

নিজের শখকে প্রায়োরিটি দিন। মন খারাপ বা অবসর সময়গুলোতে শখের কাজগুলো করুন। এগুলো করার মাধ্যমে আপনি আনন্দ পাবেন ও মনের মধ্যে সজীবতা ফিরে আসবে।

১০. বই পড়ার অভ্যাস

বই মানুষকে নানাভাবে আনন্দ দেয়, উৎসাহিত করে সর্বোপরি ব্যক্তি তার নিজ সত্তার অবয়ব বইয়ের মধ্যে খুঁজে পায়। আপনি যে ধরনের বই পড়তে ভালোবাসুন সেইসব বই পড়ার মাধ্যমে অভ্যাস তৈরি করুন।প্রথম দুই দিন দশ পৃষ্ঠা করে পড়লে পরের দুইদিন এগারো পৃষ্ঠা করে পড়ার চেষ্টা করুন।

আপনি চাইলেই উপরের ছোট ছোট অভ্যাসগুলো তৈরির মাধ্যমে নিজের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন, যা আপনি নিজেই একসময় উপলব্ধি করবেন।

 

আরো ব্লগ পেতে এখানে ক্লিক করুন।

 

নাম: মোসা.লুভনা আক্তার

ইন্টার্ন

কন্টেন্ট রাইটিং বিভাগ

ওয়াইএসএসসি