বর্তমানে এই উন্নত বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে আমরা বিশ্বের যে কোন সংস্কৃতির এমনকি যেকোনো প্রান্তের মানুষদের সঙ্গে অতি সহজেই যোগাযোগ করতে পারছি।  বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য,  অবকাঠামো এবং আমাদের সমাজের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা। 

আমরা কম বেশ সবাই এর উপর ‌নির্ভরশীল। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আমাদের আচার আচরণ জীবন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াত, চিকিৎসা, নিরাপত্তা সকল ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলছে।

আমরা এমন এক বিশ্বে বসবাস করি যেখানে পরষ্পরের মধ্যে সাহায্য অপরিহার্য।আর এদিকে এ প্রযুক্তিগুলো  আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে জীবনকে করে তুলেছে অতি সহজ।

প্রযুক্তি উদ্ভাবনী আবিষ্কার এর ফলে আজ নতুন কোথাও যাওয়ার জন্য আমাদের অন্য কারোর সাহায্য ছাড়াই নিজেই সেই গন্তব্যে পৌছাতে পারি প্রযুক্তি ব্যাবহার করে। গোগল ম্যাপ আমাদের সেই সহযোগীতা প্রদান করে থাকে।

তাছাড়া বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ এর সাথে খুব সহজে আমরা যোগাযোগ করতে পারছি, ভিডিও কল এ কথা বলতে পারছি, একে অন্যের সমস্যার কথা জানতে পারছি। প্রযুক্তি তে যোগাযোগ এর প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের মানুষ করোনা যখন মহামারী আকার ধারন করে তখন বুঝতে পারে। সেই সময় সবাই শুধু এই প্রযুক্তির সহায়তায় একে অপরের খোঁজ খবর নিতে পারত।  তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে বর্তামান অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, কনফারেন্সে অনলাই এ করা সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমান এ প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক ব্যাবসার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। এখন কম বেশ সবাই অনলাইন কাজ সম্পর্কে পরিচিত। মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক বেকার যবক যুবতী এই অনলাই কাজে আগ্রহ প্রকাশ করছে। ঘরে বসে বিশ্বের যেকোনো দেশে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী চাকরি পাওয়া যাচ্ছে।  প্রযুক্তি গ্রাহক  এবং কর্মচারী উভয় প্রক্রিয়ার উন্নতি করার জন্য সহজ মাপযোগ্যতার সুবিধাও দেয়।

চিকিৎসা ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি আজ প্রসংশার দাবিদার। অনেক জটিল রোগ শনাক্তকরনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে, অন্ধত্ব বা শ্রবণ সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহায়তা প্রদান করাও হচ্ছে।

আরও, স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সরঞ্জামগুলি, যেমন কৃত্রিম জয়েন্ট এবং কার্ডিওভাসকুলার ইমপ্লান্টগুলি নির্দিষ্ট অক্ষমতা বা স্বাস্থ্যের অবস্থার সাথে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করে।

এই প্রযুক্তি ব্যাবহার করে বিজ্ঞানীগন মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভবনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে যেন মানুষের কষ্ট অনেকটা লাঘব করা সম্ভব হয়,ঝুকিপূর্ণ কাজগুলোও এখন প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গিয়েছে।ফলে সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে এবং ঝুকিপূর্ণ কাজগুলোও অতি সহজে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। 

এছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন দেশে এ আই অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে

 তবে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। বর্তমান বিশ্ব যেই হারে প্রযুক্তি নির্ভর হওয়া শুরু হয়েছে মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতা, চিন্তা করার ক্ষমতাও যেন দিন দিন সেই হারে কমে যাচ্ছে। 

তাছাড়া বর্তমানে ছোট থেকে বড় সকলেই প্রযুক্তির এক অবিস্মরণীয় আবিষ্কার ইন্টারনেট, ফেসবুক এসব এ আসক্ত হয়ে পরছে। তারা তাদের অধিকাংশ সময় ব্যয় করছে এই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।

তাছাড়াও এই প্রযুক্তি নির্ভরতার ফলে চাকরির বাজারে যেমন প্রতিযোগিতা বাড়ছে সেই সাথে চাকরির সংকটও তৈরী হয়েছে।

এছাড়াও বড় বড় কোম্পানি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে করিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া সাইবার বুলিং এরও শংকা প্রকাশ করছে অনেকে।

প্রযুক্তির ইতিবাচক নেতিবাচক উভয় দিক নিয়েই প্রযুক্তি সামনে এগিয়ে যাবে। কারন প্রযুক্তি ইতিবাচক দিক যেমন: চিকিৎসাক্ষেত্রে, যোগাযোগ ক্ষেত্রে, পড়াশোনা কিংবা গবেষণা ক্ষেত্রে যতটা ভূমিকা রাখে তেমনি এই সমাজ ও আমাদের জীবনে কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও ফেলছে।

তবে আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ প্রযুক্তির এই ইতিবাচক প্রভাব গুলোকে গ্রহণ করা এবং প্রযুক্তি যেনো আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা। এটি আমাদের সকলের দায়িত্বর মধ্যে পড়ে যে আমরা আমাদের প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করব এবং সামগ্রিকভাবে সমাজের সকলে যেন উপকৃত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবো। এটি আমাদের সকলের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে যে আমরা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবো এবং সামগ্রিকভাবে সমাজের সকলে যেন উপকৃত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবো।

এরকম আরও ব্লগ পড়তে, ক্লিক করুন। 

 

লেখিকা

তাবাসসুম আক্তার তাবা 

ইন্টার্ন,‌ কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট

YSSE