‘মাইগ্রেন’-এই নামটার সাথে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। বিশেষ করে আমাদের মধ্যে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তারা সহজেই এই ব্যথার তীব্রতা উপলব্ধি করতে পারে।
মাইগ্রেনের ব্যথার আকস্মিক আক্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা আবশ্যক।এর মধ্যে রয়েছে কিছু খাবার-দাবার যা এই ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয়। তাহলে চলুন আমরা জেনে নিই মাইগ্রেনের জন্য দায়ী কিছু খাবার সম্পর্কে যা আমাদের এড়িয়ে চলা দরকার।
মাইগ্রেন কী ও এর কারণ:
এটি একটি স্নায়ুবিক অবস্থা যা বিভিন্ন উপসর্গের জন্ম দেয়। নির্দিষ্টভাবে কী কারণে এই অসুখ হয় তা জানা না গেলেও, ধারণা করা হয় কিছু ফ্যাক্টর যেমন- উজ্জ্বল আলো, অত্যধিক গরম, ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা, হরমোনাল পরিবর্তন- বিশেষ করে মহিলাদের পিরিয়ড বা গর্ভকালীন সময়ে, স্ট্রেস, উচ্চ শব্দ, নির্দিষ্ট কিছু খাবার, ওষুধের প্রতিক্রিয়া, ধূমপান বা মদ্যপান এর জন্য দায়ী হতে পারে।
এছাড়াও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাব ঘটলে, রক্তস্বল্পতা, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করা কমে গেলেও মাইগ্রেন এর ব্যথা হতে পারে। তীব্র মাথা ব্যথার সাথে আরও কিছু উপসর্গ এই অসুখে দেখা দিতে পারে। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- বমি বমি ভাব
- কথা বলতে জড়তা অনুভব
- হাত-পা কাঁপা
- ঘাড় ব্যথা
- আলো বা শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা
- অবসাদ
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পেতে কোন ধরনের খাবার উপেক্ষা করা উচিত :
নিচের কিছু খাবার প্রায় সময়ই এই মাইগ্রেন-এর ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয় বলে গবেষকদের ধারণা। যেমন-
- কফি: কফি যা গোটা দুনিয়া জুড়ে খুবই জনপ্রিয় একটি পানীয়। এর উপাদান হিসেবে থাকা ক্যাফেইন চা, সোডাসহ অনেক অ্যানার্জি ড্রিঙ্কসেও পাওয়া যায়। কিন্তু বিপত্তিটা বাধে অতিরিক্ত পরিমান ক্যাফেইনের কারণে। এটি বিভিন্ন রকমভাবে এই ব্যথার উপর প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ক্যাফেইন-এর সাথে প্যারাসিটামল খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে মাইগ্রেন রোগীদের খাদ্যাভ্যাস থেকে ক্যাফেইন গ্রহন কমানো বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন আছে এমন খাবার গ্রহন বাদ দেওয়াটাকেই সবচেয়ে উত্তম উপায় বলছেন গবেষকরা।
- পনির: যারা কিনা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছে, তাদের পনির খেলে সমস্যা দেখা যায়। তাই পনির না খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
- প্রক্রিয়াজাতক্রিত মাংস: পটাশিয়াম নাইট্রেট, সোডিয়াম নাইট্রেট – এই প্রিজারভেটিভ গুলো প্রক্রিয়াজাতক্রিত মাংসতে থাকে। যেমন: সসেজ। অনেক সময় এই ধরনের মাংসকে মাইগ্রেনের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়ে থাকে।
- টেস্টিং সল্ট: টেস্টিং সল্ট চাইনিজ, ইটালিয়ান সহ যেকোনো রকমের ফাস্টফুড বা মুখরোচক খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এটি যেহেতু মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ায় সেহেতু এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম।
- চকোলেট: গবেষণায় দেখা গেছে, চকোলেট খাওয়ার ফলে মাইগ্রেনের তীব্রতা বাড়তে পারে।তাই বিশেষজ্ঞদের কারো কারো মতে মাইগ্রেন রোগীদের খাদ্যাভ্যাস এর মধ্যে এই খাবার না রাখাই শ্রেয়।
উপরোক্ত খাবারগুলো ছাড়াও আপেল, কলা, চিনাবাদাম, পেয়াজ, দই, দুধ, মাখন, আইসক্রিম, ডিম, টমেটো, পেঁয়াজ, গম জাতীয় খাবার (যেমনঃ রুটি, ব্রেড, পাস্তা, ম্যাকারনি) ইত্যাদি। টক জাতীয় ফলকেও দায়ী করা হয় মাইগ্রেনের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য। তাই এসব খাবারগুলোও কম খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
যেসব খাবার মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়ক:
- ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। যেমন- ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত, আলু ইত্যাদি।
- বিভিন্ন ফল যেমন খেজুর ও ডুমুর।
- সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি।
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার। যেমন : তিল, আটা ও বিট।
- আদা চা, আদার টুকরো বা আদার রস।
- ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার।
মাইগ্রেন চিকিৎসায় কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সেটা হতে হবে পরিমিত।
- অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা।
- কড়া রোদ বা তীব্র ঠান্ডা পরিহার করতে হবে।
- উচ্চশব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা।
- বেশি সময় ধরে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যথা: কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা।
মাইগ্রেন নামের এই ভয়ানক যন্ত্রণাকে স্বাভাবিক মাথাব্যথা ভেবে দিনের পর দিন সহ্য করে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। প্রত্যেকের উচিত মাইগ্রেন সম্পর্কে জানা ও সচেতন হওয়া। সেইসাথে প্রতিরোধমূলক নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা। কারণ যেকোনো রোগের ক্ষেত্রেই, “Prevention is better than cure”!
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, ক্লিক করুন।
লেখিকা
মেহরীন খান
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE
