⛊বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।’

আচ্ছা,একটা সময়ের কথা মনে আছে? যখন এদেশের নারীদের জীবন ঘরের চার দেয়ালের মাঝেই বন্দি ছিল? যখন ছোট থেকেই একজন নারী কে শেখানো হতো, “মেয়েদের জন্য সংসার ধর্মই আসল ধর্ম”। যখন মনে করা হতো, নারী মানেই হবে কোমল, যার কোন পছন্দ অপছন্দ থাকবে না। যার উপর চাপিয়ে দেয়া যাবে যেকোনো মতামত। 

কালের পরিক্রমায়, সময়ের প্রয়োজনে আজ নারীরা শুধু ঘরেই নয়, ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে পৌছে গেছেন সমাজের বিভিন্ন প্রান্তে, সাফল্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে। আজকের এই ব্লগে আমরা নারীদের ভূমিকার অসাধারণ বিবর্তন নিয়ে জানবো। চলুন, দেখে নেয়া যাক কেমন ছিলো এই অনবদ্য যাত্রা।

♛শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের বিবর্তনঃ

আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগের কথা, যখন দেশের স্কুল কলেজে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা একদম নগন্য। স্কুল পেরিয়ে কলেজে ওঠার আগেই একজন মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়া হতো। অথবা বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। 

গর্বের সাথেই বলা যায় আজকের বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের পাওয়া বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান বুর‍্যো থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে নারী শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৫১ শতাংশ

আর এই অগ্রগতি শুধুমাত্র শিক্ষাগ্রহণেই নয়, শিক্ষাদানেও বর্তমানে নারী শিক্ষকের অসামান্য অবদান রয়েছে।  “তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব” তাই আশা করাই যায়, শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের এই অভূতপূর্ব সাফল্য আমাদের এক শিক্ষিত সমৃদ্ধ সমাজ উপহার দেবে। 

♛অর্থনীতিতে নারীদের বিবর্তনঃ

আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা সবসময়ই পুরুষের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল একজন নারীর জন্য স্বপ্নের মতন। কিন্তু আজকের এই দিনে স্বপ্ন যেন এক অকাট্য বাস্তবতা হিসেবে ধরা দিয়েছে। কারনযে রাধে সে চুলও বাধে 

তাইতো বর্তমান বাংলাদেশে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও নারীরা অসামান্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও আজকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার,নির্মাতার পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, নিজস্ব চিন্তাভাবনা, ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। যার ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরী হচ্ছেন। তাই আজকে আনন্দের সাথেই বলতে পারি, শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রই নয়, কর্মক্ষেত্র তৈরী করার মাধ্যমে দেশ বা পরিবারের অর্থনীতি সচল রাখছেন। উদাহরণ দিতে গেলে বলা যায় বাংলাদেশের মাহমুদা সুলতানার কথা, যিনি মহাকাশ সংস্থা নাসা থেকে ইনভেন্টর অফ দ্যা ইয়ার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এছাড়াও হিমালয়ের দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছেন নিশাত মজুমদার এবং পরবর্তীতে ওয়াসফিয়া নাজরীন। 

♛নেতৃত্ব ও সমাজ গঠনে নারীদের বিবর্তনঃ

আমরা সবাই সমাজে একটা চিত্র দেখেছি, যে আমাদের পরিবার বা সমাজে একজন নারীর মতামত কে সর্বদা উপেক্ষা করা হতো। ব্যক্তিগত অথবা সামাজিক ক্ষেত্রে একজন নারীকে কখনোই সিদ্ধান্ত নেয়ার অবকাশ দেয়া হতো না। “মেয়ে মানুষ কি বুঝবে” এটা ছিলো খুব কমন এক ডায়লগ। কিন্তু এখন যুগ বদলেছে। সকল ক্ষেত্রে নারীরা নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করেছেন। তাই ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি বর্তমান সমাজেও নারী নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, বর্তমান বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে আজ নারীরা সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও সাফল্যের সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। নারীদের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।

♛নারী অগ্রযাত্রায় কিছু চ্যালেঞ্জ

একজন নারীর জন্য কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সংসারেও সময় দিতে হয়।  তাই তাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। 

তাই নারীদের জয়গান গাওয়ার পাশাপাশি তাদের চ্যালেঞ্জ গুলো নিরসনেও আমাদের কাজ করতে হবে। পরিবারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। 

এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়, কর্মক্ষেত্রে তাদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। 

‘সেদিন সুদূর নয়

 যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়।’ 

কবি নজরুল ইসলামের প্রায় কয়েক যুগ আগে লেখা এই কবিতা অনেকাংশেই বাস্তবতায় রুপ নিচ্ছে। তাই নারীদের এগিয়ে যেতে আমাদের সকলকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই গড়বে এক সুন্দর সহমর্মিতাপূর্ন চিরকল্যানকর পৃথিবী। 

এমন আরো ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন

লেখক

আব্দুল্লাহ আর রাফী

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট

YSSE