ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিনিয়ত যে কোনো কারণেই সকল জেলার মানুষ ঢাকামুখী হয়।

তেমনই এক সুন্দর পরিভ্রমণের কথা তুলে ধরবো আজ, যার জন্য দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষারত ছিলেন ঐ অঞ্চলের মানুষেরা। ভ্রমণকে সহজ, নিরাপদ ও দ্রুততম করার জন্য অধীর আগ্রহে ছিলেন ঢাকা ও কক্সবাজারের জনগণ। 

আমাদের জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টার ফলে অবশেষে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বপ্নের “কক্সবাজার এক্সপ্রেস”

কক্সবাজার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। যার অবিরাম মনোমুগ্ধকর দৃশ্য প্রতিটি ভ্রমণপিপাসু মানুষকে মোহ-মায়ায় আবদ্ধ করে। 

শহরের কর্মব্যস্ত জীবনে কিছুটা প্রশান্তি লাভের আশায় মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে, যেন বিরতি পেলেই তারা ছুটে যাবে সমুদ্রের জলরাশি উপভোগ করতে। আর তাই কক্সবাজার ভ্রমণ প্রতিটি মানুষের কাছে প্রশান্তির অনন্য উদাহরণ। 

তাছাড়া অর্থনৈতিক কাজেও কক্সবাজার যাতায়াত ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়। আর তাই “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” সর্বস্তরের মানুষের জন্য এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রূপে।

গত ১২ ই নভেম্বর, ২০২৩ সালে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেলপথ উদ্বোধন করেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরই মাধ্যমে স্থাপন হয় ঢাকা় এবং কক্সবাজারের মধ্যে রেলসংযোগ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানানো হয় ১ ডিসেম্বর থেকে চলবে দু জোড়া আন্ত:নগর ট্রেন। 

একটি ঢাকা টু কক্সবাজারগামী এবং অপরটি চট্টগ্রাম টু কক্সবাজারগামী। 

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার এই সুন্দর যাত্রাপথের ভাড়াতালিকা ও সময়সূচির চূড়ান্ত তথ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

৩৯৭.৬ কি.মি. সড়কপথের দূরত্ব রয়েছে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের যাত্রাপথে, যেখানে বাসে যেতে সময় লাগে কমবেশি ১০\১১ ঘণ্টার মত এবং বিমানে যেতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট যা সর্বনিম্ন সময়। 

কিন্তু ভাড়ার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভ্রমণপিপাসু বা সাধারণ যাতায়াতকারীদের জন্য ব্যয়বহুল। তাই “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” এনেছে অন্যতম পরিবর্তন যা যাত্রীদের সময় বাঁচাতে সহযোগী এবং একই সাথে কম খরচের ভ্রমণে সক্ষম হবে।

নিচে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ভাড়ার তালিকা সমূহ উল্লেখ করা হলো: 

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের ভাড়ার তালিকাঃ

  • শোভন চেয়ার টিকিট – ৬৯৫ টাকা
  • এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) – ১৩২৫ টাকা
  • প্রথম শ্রেনীর চেয়ার- ৭৭১ টাকা
  • প্রথম শ্রেনীর বার্থ/সিট – ১৫৯০ টাকা
  • এসি বার্থের টিকিট – ২৩৮০ টাকা

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের ভাড়ার তালিকাঃ 

  • শোভন চেয়ার টিকিট – ২০৫ টাকা
  • এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) – ৩৮৬ টাকা
  • প্রথম শ্রেনীর চেয়ার- ৩১১ টাকা
  • প্রথম শ্রেনীর বার্থ/সিট – ৪৬৬ টাকা
  • এসি বার্থের টিকিট – ৬৯৬ টাকা

ঢাকা টু কক্সবাজার যাত্রার সময়সূচীঃ

যাত্রা শুরু সময় যাত্রা শেষ সময়
ঢাকা রাত ১০ঃ৩০ মিনিটে কক্সবাজার ভোর ০৭ঃ২০ মিনিটে
ঢাকা ভোর ৬ঃ১৫ মিনিটে কক্সবাজার বিকেল ০৩ঃ০০ টায়

কক্সবাজার টু ঢাকা যাত্রার সময়সূচীঃ 

যাত্রা শুরু সময় যাত্রা শেষ সময়
কক্সবাজার দুপুর ১২ঃ৩০ মিনিটে ঢাকা রাত ০৯ঃ১০ মিনিটে
কক্সবাজার রাত ০৮ঃ০০ টায় ঢাকা রাত ০৪ঃ৩০ মিনিটে

চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার যাত্রার সময়সূচীঃ

যাত্রা শুরু সময় যাত্রা শেষ সময়
চট্টগ্রাম সকাল ০৬ঃ৩০ মিনিট কক্সবাজার সকাল ১০ঃ০০ টায়
চট্টগ্রাম দুপুর ০৩ঃ১৫ মিনিটে কক্সবাজার সন্ধ্যা ০৭ঃ০০ টায়

কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম যাত্রার সময়সূচীঃ 

যাত্রা শুরু সময় যাত্রা শেষ সময়
কক্সবাজার সকাল ১০ঃ৩০ মিনিট চট্টগ্রাম দুপুর ০২ঃ০০ টায়
কক্সবাজার সন্ধ্যা ০৭ঃ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম রাত ১১ঃ০০ টায়

“কক্সবাজার এক্সপ্রেস” ট্রেনের যাত্রাপথে বিরতির স্টেশনসমূহ হলোঃ

  • যাত্রা শুরুতে,  কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে 
  • ৫ মিনিটের বিরতি,  ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে
  • ২০ মিনিটের বিরতি,  চট্রগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে 
  • যাত্রা শেষে, কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া ৬৯৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ভাড়া ২৩৮০ টাকা। কক্সবাজার এক্সপ্রেসে আছে দুটি খাবার বগি, একটি পাওয়ার কার, তিনটি এসি কেবিন, পাঁচটি এসি চেয়ার, ছয়টি শোভন চেয়ার এবং একটি নন এসি ফার্স্ট সিট বগি। ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাত্রাকালে আসন পাওয়া যাবে ৭৯৭ টি, কিন্তু ফিরতি পথে আসন সংখ্যা থাকবে ৭৩৭ টি।

“কক্সবাজার এক্সপ্রেস” সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

  • কক্সবাজার ট্রেনের লোকেশন জানতে হলে আমরা Bangladesh Train Tracker অ্যাপটির মাধ্যমে ৪ টাকা (+ভ্যাট) দিয়ে মেসেজের মাধ্যমে তথ্যটি সংগ্রহ করতে পারবো। অথবা সময় তালিকা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ট্রেনের অবস্থান নির্ণয় করতে পারবো। 
  • ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনের কোড হলো ৮১৪ এবং কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের কোড হলো ৮১৩ যা খুব সহজেই আমাদের ট্রেনটি চিনতে সহযোগিতা করবে।
  • ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কি.মি.।
  • কক্সবাজার এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ার, সাধারণ আন্ত:নগর ট্রেন থেকে ভাড়া তুলনামূলক বেশি ধরা হয়েছে। তবে বিমানবন্দরে আসা ও যাওয়া উভয়ক্ষেত্রে বিরতির ব্যবস্থা থাকবে। এবং ঢাকা টু কক্সবাজার প্রতি সোমবার এবং কক্সবাজার টু ঢাকা প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

চলুন জেনে আসা যাক টিকিট কাটার উপায়!

সকল ট্রেনের মতোই কক্সবাজার এক্সপ্রেসে থাকছে কাউন্টার ও অনলাইন উভয় টিকিট ব্যবস্থা। 

টিকিট কাটার ওয়েবসাইট হলো: https://eticket.railway.gov.bd। 

তবে, অনলাইন টিকিট কাটার সময় শিকার হতে হয় কালোবাজারির যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অল্প সময়ের মধ্যেই হারিয়ে যায় অজস্র টিকিট। 

আর সেই হারিয়ে যাওয়া টিকিট ই কিনতে হয় চড়া দামে। তবে আনন্দের সংবাদ এই যে, কালোবাজারি দমনে উদ্যোগ নিচ্ছে র‌্যাব প্রশাসন। ইতোমধ্যেই ই-টিকিটিং পোর্টাল ডট কমে দুইজন কালোবাজারি গ্রেফতার হয়েছে। 

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি আসন, দরজা সকল কিছুই বেশ পরিপাটি ও মনোমুগ্ধকর। 

কোরিয়া থেকে আনা এই ট্রেনে করে পরিভ্রমণ করলে নিঃসন্দেহে মন প্রশান্তিতে ভরে উঠবে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে এমন একটি ট্রেন যা দ্রুততা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে পরিভ্রমণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের দেশ আমাদের গর্ব। এদেশের সকল কিছু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সর্বস্তরের মানুষের। 

তাই আমরা যখন কক্সবাজার এক্সপ্রেসের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করবো, অবশ্যই আমাদের নিজস্ব জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে যেনো আমরা ট্রেনের পরিবেশ ও সকল কিছু সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি এবং দূষণ ও বিশৃঙ্খল আচরণ দ্বারা যেনো কোনো ক্ষতি না করি। 

পুনশ্চঃ ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যসমূহ অর্থাৎ টিকিটের মূল্য, সময়সূচী ও স্টপেজ সহ সকল তথ্যসমূহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত। 

ট্রেন ও রেল কর্তৃপক্ষ যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তা যেকোনো সময় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারেন। তাই সব সময় নতুন আপডেট পেতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করা নিরাপদ।

এরকম আরও ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন

লেখিকা

হাফসা বেগম 

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট 

YSSE