বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেন না এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা অনেক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য। কিন্তু আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সুখবর হলো, বর্তমানে বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস স্কোর ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে। আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় আইইএলটিএস ছাড়াই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে বোঝা প্রয়োজন কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলটিএস (IELTS) চায়। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি। তাই একজন শিক্ষার্থী ক্লাসের লেকচার বুঝতে পারবে কি না এবং অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষায় ইংরেজিতে উত্তর দিতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই স্কোরটি দেখা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর ইংরেজি ‘দক্ষতা’ বা ‘Proficiency’ যাচাই করা, শুধুমাত্র আইইএলটিএস (IELTS) সার্টিফিকেট দেখা নয়। যদি অন্য কোনো উপায়ে এই দক্ষতা প্রমাণ করা যায়, তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই ভর্তির সুযোগ দিয়ে থাকে।
আইইএলটিএস (IELTS) ছাড়া ভর্তির জন্য বেশ কিছু বিকল্প পথ বা মাধ্যম রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে প্রধান মাধ্যমগুলো আলোচনা করা হলো:
১. মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন (MOI) সনদ: বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ‘মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন’ বা MOI সনদ গ্রহণ করে থাকে। যদি কোনো শিক্ষার্থী তার সর্বশেষ ডিগ্রিটি (যেমন স্নাতক বা উচ্চ মাধ্যমিক) সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে, তবে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র বা MOI সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারে। যুক্তরাজ্য (UK) এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই সনদের ভিত্তিতে আইইএলটিএস ওয়েভার (Waiver) দিয়ে থাকে।
২. বিকল্প ইংরেজি পরীক্ষা: আইইএলটিএস একমাত্র ইংরেজি পরীক্ষা নয়। বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ডুয়োলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট (Duolingo English Test – DET) গ্রহণ করছে। এটি আইইএলটিএস-এর তুলনায় সাশ্রয়ী এবং ঘরে বসেই অনলাইনে দেওয়া যায়। এছাড়া পিটিই (PTE) বা টোফেল (TOEFL)-এর মতো পরীক্ষাও অনেক ক্ষেত্রে সহজ বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
৩. কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন (Conditional Admission): যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন’ বা শর্তসাপেক্ষে ভর্তির সুযোগ দেয়। এর মানে হলো, শিক্ষার্থী মূল কোর্সে ভর্তির আগে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম’ বা ESL কোর্সে ভর্তি হবে। সেখানে নির্দিষ্ট সময় ইংরেজি শেখার পর তারা মূল একাডেমিক কোর্সে পড়াশোনা শুরু করতে পারবে।
৪. ইন্টারনাল প্লেসমেন্ট টেস্ট: কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস স্কোরের পরিবর্তে নিজস্ব অনলাইন ইন্টারভিউ বা লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করে। স্কাইপ বা জুমের মাধ্যমে নেওয়া এই ইন্টারভিউতে যদি ভর্তি কমিটি মনে করে যে শিক্ষার্থীর ইংরেজি বলার এবং বোঝার দক্ষতা যথেষ্ট, তবে তারা ভর্তির অনুমতি দিয়ে থাকে।
আইইএলটিএস ছাড়া আবেদনের ক্ষেত্রে সব দেশ একই নীতি অনুসরণ করে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট দেশে এই সুযোগটি বেশি পাওয়া যায়:
- যুক্তরাষ্ট্র (USA): এখানে হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অনেক স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং কমিউনিটি কলেজ আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তির সুযোগ দেয়, বিশেষ করে যদি শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে থাকে অথবা তারা ডুয়োলিঙ্গো টেস্ট দেয়।
- যুক্তরাজ্য (UK): কিছু বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিকে ইংরেজিতে প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ভিত্তি করে আইইএলটিএস ছাড় দেয়। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
- মালয়েশিয়া ও চীন: এশিয়ার এই দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার মান দিন দিন বাড়ছে। এখানে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করা যায় এবং পড়াশোনার খরচও তুলনামূলক কম।
- কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া: এই দেশগুলোতে আইইএলটিএস ছাড়া ভিসা পাওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয়। ডিপ্লোমা কোর্স বা পাথওয়ে প্রোগ্রামের মাধ্যমে এখানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আইইএলটিএস ছাড়া বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এর কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা মাথায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, ভিসার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় অফার লেটার দিলেও, এম্বাসি ফেস করার সময় ভিসা অফিসার যদি মনে করেন শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা দুর্বল, তবে ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে। তাই আইইএলটিএস না থাকলেও ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটানো জরুরি।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বা খুব হাই-র্যাংকড বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত আইইএলটিএস ছাড়া ছাড় দিতে চায় না। তাই যারা আইইএলটিএস ছাড়া আবেদন করতে চান, তাদের হয়তো মধ্যম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেছে নিতে হতে পারে।
আইইএলটিএস ছাড়াই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এখন আর অলীক কল্পনা নয়। সঠিক তথ্য, যথাযথ প্রস্তুতি এবং বিকল্প পথগুলো সম্পর্কে জানলে একজন শিক্ষার্থী সহজেই তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সার্টিফিকেট না থাকলেও ইংরেজি ভাষার ওপর দখল থাকাটা বিদেশে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। তাই আবেদনের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নিজের ভাষার দক্ষতা উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া উচিত।
এই ধরনের আরও ব্লগ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
লেখক,
মো:কাইয়ুম
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE
