প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোয়ায় দিন দিন বদলে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবী। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে এমন কোনো জায়গা খুজে পাওয়া দুষ্কর যেখানে প্রযুক্তির ছোয়া লাগে নি। শিক্ষাঙ্গনও এর বাইরে নয়। আধুনিক সময়ে প্রযুক্তির প্রভাব পড়তে শুরু করছে শিক্ষা ক্ষেত্রেও।

শিক্ষায় প্রযুক্তির বিবর্তন:

কিছু সময় আগেও দেশের প্রতিটি ক্লাসরুমে ব্ল্যাকবোর্ড বসানো ছিল। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে এসব বদলে গেছে। আধুনিকতার ছোয়ায় এখন দেশের প্রায় সবখানেই ডিজিটাল বোর্ডে পড়ানো হয়। অতীতে অনলাইন ক্লাস তো কল্পনাও করা যেত না। অথচ এখন দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নিয়ে থাকে। এইতো বছর কয়েক আগে করোনার প্রভাবে সাড়া দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলেছে ক্লাস। কালের বিবর্তনে সবই পরিবর্তন হয়েছে। প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। ব্ল্যাকবোর্ড থেকে অনলাইন ক্লাস এ সবই প্রযুক্তির প্রভাব।

শিক্ষায় প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার:

ই-লার্নিং ও অনলাইন ক্লাস: অনলাইনেও ক্লাস নেওয়া সম্ভব। বছর কয়েক আগে আপনি এগুলো কল্পনা করতে পেরেছিলেন? সম্ভবত আমার মতো আপনিও পারেন নি। জুম, গুগল মিট ব্যবহার করে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে।শিক্ষকরা তাদের বাসায় বসে শিক্ষাদান করতে পারছেন। আর শিক্ষার্থীরাও ঘরে বসে তা গ্রহন করতে পারছে। এছাড়া গুগুল ক্লাসরুমের মাধ্যমে ই-লার্নিং ও সম্ভব হয়েছে। পূর্বে পড়াশোনায় অনেক সমস্যার সমাধান খুজতে শিক্ষার্থীদের বেশ বেগ পেতে হতো। কিন্তু ই-লার্নিং তা এখন সহজ করে দিয়েছে। ঘরে বসেই খুব সহজেই করতে পারছে সমাধান।

শিক্ষামূলক অ্যাপ ও সফটওয়্যার: বর্তমানে অনেক শিক্ষামূলক অ্যাপ বের হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। ঘরে বসে আপনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাষা আয়ত্ত্ব করতে পারবেন। বিশ্বাস হয়? হ্যা, প্রযুক্তির কল্যানে এখন এটাও সম্ভব। ডুয়োলিংগো অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক ভাষা সমন্ধে জানতে পারা যায় এবং শেখাও যায়। আরো অনেক সফটওয়্যার আছে যেগুলো ব্যবহার করে গনিত,জ্যামিতি,বিজ্ঞান বিষয়ে ফ্রিতে শিক্ষা গ্রহন করা যাচ্ছে। প্রযুক্তির ফলেই এগুলো সম্ভব হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(AI) ও অটোমেশন: বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বহুল জনপ্রিয় একটি নাম AI. যেকোনো সমস্যার সমাধান খুজে দিচ্ছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন প্রযুক্তি। প্রেজেন্টেশন স্লাইড থেকে শুরু করে রিসার্চ পেপার সবই নিমেষে করে দিচ্ছে চ্যাট জিপিটি বা AI. চ্যাটবট ও AI ভিত্তিক টিউটর এর মাধ্যমে পড়াশুনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ডেটা অ্যানালিটিক্স: এটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হয়। একজন শিক্ষার্থীর শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার দিক গুলো এই ডেটা অ্যানালাইসিস করার মাধ্যমে ধরা পড়ে।এটির ব্যবহার খুব একটা বেশি না হলেও দিন যত যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স এ উন্নতি আনার জন্য ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার এর দিকে ঝুকছে।

প্রযুক্তির সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ:

সুবিধাসমূহ: প্রযুক্তির কারনে শিক্ষা অনেকাংশে সহজলভ্য হয়ে গেছে। পূর্বে ছোট সমস্যার জন্যও শিক্ষকদের নিকট যেতে হতো। তবে এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে। যেকোনো প্রান্তে বসে নিজের ইচ্ছা মতো অনেক কিছু শিখতে পারা যাচ্ছে। প্রযুক্তি শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুনত্ব এনে দিয়েছে। প্রযুক্তির ছোয়া শিক্ষার মানকে অনেক বৃদ্ধি করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনেক ধরনের দক্ষতা অর্জন করতে পারছে, তাও আবার বিনা মূল্যে।

চ্যালেঞ্জসমূহ: প্রযুক্তির অনেক সুবিধা থাকলেও সাথে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য ডিভাইস প্রয়োজন হয়, সাথে দরকার হয় ইন্টারনেট সংযোগ। তবে সবার এই ডিভাইস আর ইন্টারনেট সংযোগ রাখার মতো সামর্থ্য নেই।অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে প্রযুক্তির সুফল নেওয়া হতে। আবার যাদের এই সামর্থ্য আছে তাদের অনেকেরই নেই প্রযুক্তিগত দক্ষতা। এজন্য অনলাইন ক্লাসগুলোতে অনেক সময়ই দেখা যায় শিক্ষক,শিক্ষার্থী উভয়ই নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। প্রযুক্তির একটি বড় কুফল হচ্ছে অতি মাত্রায় প্রযুক্তি নির্ভরতা। বর্তমান জেনারেশন প্রযুক্তির দিকে একটু বেশিই ঝুকে আছে।এতে করে তাদের মাঝে কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস কমে গেছে। তাদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের দক্ষতার অভাব হচ্ছে।

প্রযুক্তি সারা বিশ্বের চিত্র বদলে দিচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে প্রযুক্তি আরো উন্নতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তির ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাঙ্গন। তবে আমাদের উচিত অতি মাত্রায় প্রযুক্তি নির্ভরতা কমানো। প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া জরুরি কিন্তু তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। বলা বাহুল্য শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

এরকম আরো ব্লগ পড়তে, ক্লিক করুন

লেখক,

পিয়াস মাহমুদ

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট

YSSE