ইদানীং কালে আমাদের সামনে বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডোপামিন ডিটক্স শব্দ টি ঘুরেফিরে আসতেই থাকে। বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে লেখক লেখিকারা পর্যন্ত এ নিয়ে সর্বদাই কথা বলছেন।
ডোপামিন ডিটক্স নিয়ে ঠিক কি বুঝিয়ে থাকে, মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে এটা ঠিক কিভাবে জড়িত, কিভাবে এটি আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ডোপামিন ডিটক্স:
ডোপামিন ডিটক্স বা ডোপামিন উপবাস বলতে বোঝায়, ডিটক্স বা কোনো কিছু করা থেকে বিরত থাকার প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ওই কাজ বা অভ্যাস থেকে সাময়িক পরিত্রাণ সম্ভব।
ডোপামিন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আমাদের মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভুত। এটি আমাদের ভালো বা আনন্দানুভূতি অনুভূত হওয়ার মূল কারণ। আর এই ডোপামিন নিঃসরণ বন্ধ বা কমিয়ে এনে যখন কোনো কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়, মূলত ডোপামিন ডিটক্স দিয়ে তাই বোঝানো হয়।
এটি আমাদের কগনিটিভ বা জ্ঞান সম্বন্ধীয় এমন ধরনের অভ্যাস পরিত্যাগে কাজ করে যা অস্বাস্থ্যকর এবং একে চিহ্নিত করে একটি স্বাস্থ্যকর উপায় বেছে নিতে সাহায্য করে।
ডোপামিন কিভাবে নিঃসরণ হয়:
প্রাচীন যুগে ডোপামিন মানুষদের নতুন নতুন উৎসের সন্ধানে সাহায্য করেছে। পরবর্তীতে শুধুমাত্র স্মৃতি থেকে তথ্য নিয়ে সেই জায়গা বা জিনিসগুলো পুনঃআবিস্কারে তাদের সাহায্য করেছে। এটি মূলত মস্তিষ্কের ওই অংশ কে ট্রিগার করে যেটা মানুষকে এমন সব জিনিস মনে রাখতে বা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির পূর্বে এটি মানুষের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজকে প্রভাবিত করেছে যেটা ছিলো তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের হাতিয়ার।
ডোপামিন ডিটক্স এর ফলে যা হয়ে থাকে:
এই প্রক্রিয়া চলাকালে একজন ব্যাক্তি তার আসক্তি গুলো কে নিজের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে এবং এর ফলে সৃষ্ট তাড়না সে চিহ্নিত করতে পারে। এই প্যার্টান টি একবার বুঝে নেওয়ার পর তা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হয়। কিন্তু এর অর্থ এই না যে একজন ব্যক্তির পছন্দনীয় সব কিছু থেকেই বিরত থাকা জরুরি। পুরোপুরি ডিটক্স সম্ভব নয় যেহেতু এটি মস্তিষ্ক উদ্ভুত। যদি কেউ এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সে তার ভালো ও খারাপ অভ্যাস গুলোর বিষয়ে সচেতন হতে পারবে। কোনটি আসক্তি এবং কোনটি নিতান্তই একটি অভ্যাস তা চিহ্নিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে এর প্রভাব:
অতিমাত্রায় এই ডোপামিন নিঃসরণ আমাদের ভালো না হয়ে বরং খারাপের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে বেশিরভাগ সময়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমরা এতো গভীরভাবে টেকনোলজি নির্ভর হয়ে পড়েছি যা ঘুম থেকে উঠেই আমরা মোবাইলে নোটিফিকেশন চেক করি। অতি গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের সময়ই আমাদের মোবাইল, কম্পিউটারে একাধিক ট্যাব খোলা থাকে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমরা বিরতি নিতে পারিনা। ঘন্টার পর ঘন্টা বিভিন্ন ডিভাইসে এই স্ক্রোলিং অতিরিক্ত ডোপামিন নিঃসরণ এর ফল।
ডোপামিন ডিটক্স এই ধরনের আসক্তি মূলক কাজ থেকে বিরত রাখে। এই হরমোন যদিও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কে তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন, এলকোহল ইত্যাদির ব্যবহার ডোপামিন লেভেল বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
উচ্চ ডোপামিন ডিটক্স নিঃসরণের কিছু লক্ষণ:
- দুশ্চিন্তা
- মানসিক উত্তেজনা
- অনিদ্রা
- খিটখিটে মেজাজ
- মতিভ্রম
কেউ যদি ডাক্তারের পরামর্শে এমন কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন যা ডোপামিন লেভেল কে প্রভাবিত করতে পারে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দেখা উচিত ওষুধ সেবন বন্ধ করবে কিনা। তবে হঠাৎ করেই ডোপামিন ডিটক্স পদ্ধতি অবলম্বনকারী নিম্নোক্ত কিছু বিষয়ের সমুখীন হতে পারেন-
- বিষন্নতা
- দুশ্চিন্তা
- উৎসাহ হারিয়ে ফেলা
- অস্থিরতা ইত্যাদি
স্বাভাবিক পরিমাণে ডোপামিন নিঃসরণে যে বিষয়গুলো কাজ করে –
- ব্যায়াম
- পরিমিত খাদ্যাভ্যাস
- পরিমিত ঘুম
- মেডিটেশন
ডোপামিন উপবাসে-অনশনে আপনি যা যা করতে পারেন:
- নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হওয়া
- যেকোনো কাজে পূর্ণ মনোযোগী হওয়া
- একাধিক কাজ একসাথে না করা এবং মোবাইল, কম্পিউটার ইত্যাদির নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।
- ব্যায়াম করা
- জার্নাল বা নিয়মিত কোথাও নিজের প্রাত্যহিক কাজগুলো লিখে রাখা।
ডোপামিন ডিটক্স এর কার্যকারিতা নিয়ে অনেক মতবাদ সমালোচনা থাকলেও এর পরীক্ষিত ফলাফল ও রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণই ব্যক্তিনির্ভর। বিভিন্ন ধরনের মন্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে এটি আপনার জীবনে কতটুকু ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে তা নিজে যাচাই করে দেখাই উত্তম। এটি একটি সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তাই ধৈর্য সহকারে এটি চালিয়ে যেতে হবে।
আরো ব্লগ পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
লেখিকা
ফারজানা বিনতে রহমান
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE
