“স্বাস্থ্যই সুখের মুল”— এই উক্তিটি আমরা প্রায় শুনে এসেছি। কিন্তু স্বাস্থ্য সুখের কীভাবে? অনেকেই বলেন আগে টাকা পয়সা কামাই কর পরে স্বাস্থ্য নিয়ে ভাব! একটা সময় টাকা পয়সা কামাই করলেও স্বাস্থ্য ঠিক থাকে না। এটা ওইটা খাওয়া , করা অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়। কথায় আছে — আপনি টাকা হারালেন: কিছুই হবে না, জব হারালেন: কিছুই হবে না কিন্তু স্বাস্থ্য হারালেন মানে সব কিছু হারালেন। এর মূলভাব কিন্তু স্পষ্ট এবং পরিষ্কার যে স্বাস্থ্য হারালে আপনি পুনরায় কাজ, বা টাকা উপার্জন করার জন্য যে শ্রম দরকার সেটি আগের মতো করে দিতে পারবেন না। তাই আপনার মানসিক এবং ফিজিক্যাল সুগঠনে প্রয়োজন রয়েছে যা আপনাকে কর্মঠ এবং সতেজ অনুভব করবেন। ভবিষ্যতের রোগের আবির্ভাব থেকে সম্পূর্ণ রেহাই না পেলেও এই থেকে বড়জোর সমস্যাগুলো যেমন : ডায়াবেটিস, ক্রনিক প্রবলেম গুলো কমিয়ে আনতে পারবেন যদি আপনি এই ৩ টি মূলমন্ত্র অনুসরণ করেন।

১.পুষ্টি বা নিউট্রিসন
সুস্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য প্রথম ধাপ হচ্ছে আমাদের পুষ্টির-ভারসাম্য ব জায় রাখা। একটি সুসম খাদ্যের বিভিন্ন পুষ্টির সমন্বয় যেমন প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট এবং কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন ভিটামিন এবং মিনারেল যুক্ত থাকে যেগুলো সর্বোত্তম ভাবে আমাদের দেহের জন্য খুব উপকারী। পুষ্টি হিসাবে আপনি যেসব খেতে পারেন :

i.ফল এবং শাকসবজি : ফলমূল এবং শাক সবজির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার, মিনারেল, ফাইনিউট্রিয়ান্ট(যা শরীরে কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে)। বিভিন্ন রঙ্গের ফল মুল এবং শাক সবজির খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। এতে বিভিন্ন প্রকারে মিনারেল এবং ভিটামিন পাওয়া যায়।

ii.ফ্যাট বা চর্বি যা আমাদের পুষ্টি শ্বসন এবং ব্রেইন কে হেলদি রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অস্পৃক্ত(unsaturated) ফ্যাট যেগুলো পাওয়া যায় মাছে , বাদামে, উদ্ভিদে তেলে।এগুলা খেতে হবে। তাছাড়া, খাবারে হেলদি ফ্যাট আমাদেরকে cardiovascular রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

iii.চিনি জাতীয় খাবার এবং unprocessed food খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

iv. প্রোটিন আমাদের পেশীকে গঠন করতে, হরমোন উৎপাদন এবং শরীরে দৈহিক কর্যাবিধি সম্পূর্ণ করতে সহায়তা করে। প্রোটিনের উৎস হিসাবে চর্বিহীন মাংস, ডিম, দুধ এবং মটরশুঁটি খাওয়া যেতে পারে। দুধ ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ডি সরবরাহ করে আমাদের শরীরে জন্য।

২. শারীরিক ব্যায়াম
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম আমাদের শারীরিক এবং মানসিক জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া এটি দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতা দূর করতে সহায়তা করে। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে শারীরিক ব্যায়াম খুবই দরকারি। রোগসমূহ যেমন কার্ডিওভাসকিওলার, ক্যান্সার, এবং ডাইবেটিস – ২ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

i. আপনি যদি শারীরিক ব্যায়ামে ক্ষেত্রে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ছোট ছোট যেগুলা ব্যায়াম আছে ওগুলা করা যায় যেমন : হাটাহাটি, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা প্রাথমিক ভাবে করা যেতে পারে। নিয়মিত করলে আপনার মাঝে শারীরিক ব্যায়াম এর জন্য অভ্যাস গঠে উঠবে।

ii. আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী ফিজিক্যাল এক্টিভিটি যেটাতে আপনি উপভোগ করেন হতে পারে ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে খেলা ধুলা অথবা হাইকিং, বাইকিং চালাতে পারেন।

Iii. প্রতিদিন এর constancy ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। একদিন ৭৫ মিনিট ব্যয় করে বাকি দিন গুলা না করার চেয়ে ১৫ বা ২০ মিনিট ধরে ছোট ছোট শারীরিক ব্যায়াম করা অনেক উপকারী।

৩. মানসিক সুস্থতা
দীর্ঘস্থায়ী চাপ আমাদের শারীরিক এবং মানসিক এর উপর গভীর নেগেটিভ প্রভাব ফেলে। যখন আমরা দুশ্চিন্তায় ভুগি, তখন আমাদের শরীর অনেক কোলেস্টেরল উৎপাদন করে, ওজন বৃদ্ধি পায়, অনিদ্রা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।নিম্নে কিছু নিয়ন অনুসরণ করলে এসব কিছু থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

i.প্রতিদিন কিছু সময় নিজের শ্বাস উপর ফোকাস করে এতে আপনার কনসেন্ট্রেশন বৃদ্ধি পাবে। নিজেকে শান্ত রাখার জন্য মেডিটেশন করা যেতে পারে।

ii. ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো। ঘুম যেন পরিপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। ঘুমানোর সময় বাতি নিবানো, বিছানা পরিষ্কার রাখা এতে আপনার ঘুম ভালো হবে। ঘুমানোর সময় ফোন দূরে রাখা।

iii. নিজেকে সব সময় অফুরন্ত রাখার জন্য নিজের কাছে ভালো লাগে এমন কিছু করা যেমন বই পড়, গান শুনা, আঁকাআঁকি করা।

iv. নিজের পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব, কলিগদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা। সময় দেয়া। সোশ্যাল এক্টিভিটিস কিছু করা যেটা করতে আপনি আনন্দিত উপভোগ করেন।
সুস্বাস্থ্য জীবন যাপন একটি জার্নি, কোনও গন্তব্য নয়। উপরোক্ত তিনটি মূলমন্ত্র আপনি আপনার প্রতিদিনের রুটিনে সংবধ্য করার মাধ্যমে একটি উন্নত স্বাস্থ্য অর্জন করতে পারবেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তন থেকে বিশাল পরিবর্তন হবে মাধ্যমে আপনি দিন দিন সুস্বাস্থ্য এবং নিজের জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে পারবেন।

 

এই রকম আরো বাংলা ব্লগ পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

তানভীর হোসেন শাওন
ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
YSSE.