এ  পৃথীবিতে কি এমন কেউ আছে যে কিনা ঘুরতে ভালোবাসে না? উত্তর নিঃসন্দেহ নাই হবে । আমার মনে হয়,  প্রত্যেক মানুষ ই চায় এ পৃথিবীতে প্রত্যেকটা কোণায় কোণায় নিজের পদচিহ্ন রেখে আসতে। আমাদের ই এ সারা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে  প্রকৃতিক ও মানবসৃষ্ট হাজার হাজার দর্শনীয় স্থান । কিন্তু, এ  পুরো পৃথিবীর প্রতি কোণায় কোণায়  ঘুরে আসতে লাগবে প্রচুর  অর্থের যোগান সাথে সময় । থাক না হয় পুরো পৃথীবি ঘুরা । চলুন না আমাদের ই বাংলাদেশর ভিতরেই ঘুরে আসা যাক । কি কি আছে আমাদের ছোট্ট দেশে । জানতে পড়তে হবে আমার ই পুরো ব্লগ টি  : 

আমাদের ই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইল এর দেশে আছে অনেক অনেক মনমুগ্ধকর স্থান । এর ভিতর রয়েছে আট টি বিভাগ যথা  : ঢাকা ,চট্রগ্ৰাম,  রাজসাহী , খুলনা ,  বরিশাল , সিলেট , রংপুর ,  ময়রনসিংহ । প্রত্যেকটি বিভাগ ই আলাদা আলাদা সৌন্দর্য্য নিয়ে সাজিয়েছে নিজেদের । এখন জেনে আসা যাক সেই সব দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে : 

ঢাকা বিভাগ :

ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী শহর, বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থানের জন্য পরিচিত। নিম্ন লিখিতগুলি ঢাকার দর্শনীয় স্থানগুলি হলো:

আহসান মঞ্জিল: এটি ঢাকার একটি ঐতিহাসিক উদ্যান যেখানে বহুল প্রাচীন ভবন অবস্থিত। এটি মূঘল সাম্রাজ্যের একটি প্রাচীন মহলের উদাহরণ।

ঢাকেশ্বরী মন্দির: ধাকশ্বরী মন্দির বা কালীমন্দির ঢাকার একটি প্রধান হিন্দু পূজাস্থান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরগুলির মধ্যে গন্য।

লালবাগ কেল্লা: লালবাগ কেল্লা একটি মুঘল কেল্লা যা ঢাকার উত্তরে অবস্থিত। এটি তৃতীয় উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এবং বিখ্যাত ফোর্ট এল্লেড এলিফ্যান্ট রোডের কাছে অবস্থিত।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ: ঢাকার জাতীয় স্মৃতিসৌধ একটি ঐতিহাসিক স্থান যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া মানুষদের স্মরণ করা হয়। এটি ঢাকা শহরের জনপ্রিয় পর্যটন স্থানের মধ্যে অন্যতম।

বঙ্গভবন: এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের জন্য অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ একটি স্মৃতিস্থল। এটি শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার হয়।

এছাড়াও ঢাকায় আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যেমন বংশাল, সাখারী বাজার, স্টার মসজিদ, ঢাকা উদ্যান বিদ্যালয়, বাঙালী সাহিত্য পরিষদ, ন্যাশনাল জাদুঘর, বাংলাদেশ বিজ্ঞান কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য কেন্দ্র, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি (ডিউইটি), ইত্যাদি।

চট্রগ্ৰাম বিভাগ : 

বাংলাদেশ এ ভ্রমণ এর বিভাগ  গুলোর মধ্যে চট্রগ্ৰাম কে সেরা আর অন্যমত না বললেই নয় । চট্রগ্ৰাম ভ্রমণ প্রেমিদের জন্য সেরা ই বলা যায়। কারণ এখানে একসাথে সমুদ্র, পাহাড় আর ঝর্ণার মিলনমেলা । চট্রগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান নগরী এবং বিশ্বের তিন নগরের মধ্যে একটি। চট্রগ্রাম খুবই সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পন্ন একটি শহর। চট্রগ্রামে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যেগুলো কিছুটা নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো: যেমণ : 

পতেঙ্গা শহীদ মিনার: পটেঙ্গা শহীদ মিনার চট্রগ্রামের প্রধান আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। এটি চট্রগ্রামের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত যুবশক্তির স্মৃতির জন্য নির্মিত হয়েছে। মিনারটির শীর্ষে থাকছে একটি সুন্দর পাখির প্রতিমা। পটেঙ্গা শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে এবং এখান থেকে সুন্দর চট্রগ্রাম শহরের দৃশ্য দেখা যাবে।

জাতীয় সংগ্রহশালা: চট্রগ্রামের জাতিয় সংগ্রহশালা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহালয়। এখানে আপনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর উপর জানতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন প্রকার চিত্র, প্রতিমা,প্রাচীন শিলালিপি ইত্যাদি দেখা যাবে।

বকুল টপ ও কাঁচ টপ: চট্রগ্রামের শহরে বকুল টপ এবং কাঁচ টপ দুটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্থল। বকুল টপ চট্রগ্রামের স্মৃতিস্থল হিসেবে পরিচিত। এটি প্রাচীন চট্রগ্রাম শহরের অবশিষ্ট একটি দ্বার। কাঁচ টপ হল চট্রগ্রামের আরেকটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্থল। এটি আশতন্ত্রের সময় চট্রগ্রামের প্রতিপালিত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

কক্সবাজার: চট্রগ্রাম থেকে একটি ছোট যাত্রা করে আপনি কক্সবাজার পৌঁছাতে পারেন। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত জায়গা এবং এটি পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। সুন্দর সৈকতিক দৃশ্য, লঙ্ঘনী সৈকতিক চারিদিকের ভ্রমণ সুযোগ এবং স্থানীয় খাবার সংক্রান্ত বিশেষত্ব রয়েছে।

এছাড়াও চট্টগ্ৰাম এর মধ্যে রয়েছে অনেক গুলো ট্রেইল যেমন : 

১ . মেলখুম ট্রেইল ।  

২. বোয়ালিয়া ট্রেইল ।

৩.  হরিণমারা  হাটুঙাঙ্গা ট্রেইল । 

৪. ঝরঝরি ট্রেইল । 

৫ .সোনাইছড়ি ট্রেইল , ইত্যাদি ।

আর যারা ঝর্ণা আর পাহাড় পছন্দ করে তাদের জন্য রয়েছে রেয়েছে অনেক অনেক পাহাড়ী ঝর্ণা : 

১. কমলদহ ঝর্ণা ।

২. ছাগলকান্দা ঝর্ণা ।

৩. খৈয়াছড়া ঝর্ণা ।

৪. মিঠাই ছড়ি ও বান্দর কুম ঝর্ণা । 

৫.সুপ্তধারা ঝর্ণা ।

৬. সহশ্রধারা ঝর্ণা। 

আছে আরো অনেক ঘুরাঘুরি করার মত  জায়গা: 

১ . বাশঁ বাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ।

    ২. পরকী সমূদ্র সৈকত ।

    ৩.মহা মায়া লেক ।

    ৪. ভাটিয়ারী লেক । 

    ৫. ফয়েজ লেক ।

    ৬. পতেঙ্গা লেক ইত্যাদি ।

রাজশাহী বিভাগ 

রাজশাহী বাংলাদেশের । শহর এবং প্রশাসনিক গোলাম পুর জেলার মাঝে অবস্থিত। রাজশাহী অনেক ঐতিহ্যবাহী এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বপুর্ণ স্থানের জন্য পরিচিত। এই শহরে অনেকগুলি আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে, যা নিম্নলিখিত:

বাগেরহাট সোনাপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: এটি বাংলাদেশের প্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যা বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। এটি পদ্মা নদীর তীরে স্থাপিত একটি মনোহারী ক্যাম্পাস সহ বিশাল সাইকোলজিক্যাল গাছ সম্পন্ন।

চারণ মঠ: এটি একটি ঐতিহাসিক বৌদ্ধ মঠ যা ১৭শ শতাব্দীতে নির্মিত। চারণ মঠটি রাজসাহীর শহরের বাইরে অবস্থিত এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রমুখ ধার্মিক কেন্দ্র।

পদ্মার পাট: রাজসাহী জেলার গোদাগাড়ি উপজেলায় অবস্থিত পদ্মার পাট বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মহান নদী পদ্মার একটি প্রাকৃতিক আকর্ষণ। এখানে আপনি নৌকা ভ্রমণ ও পর্যটন করতে পারেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

সোনা মসজিদ: সোনা মসজিদ বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। এটি সোনার রংযুক্ত নিকটবর্তী শহরের উপকূলে অবস্থিত এবং মুসলিম সংস্কৃতির একটি গৌরবময় স্থান।

এছাড়াও রাজশাহী জেলায় আরও অনেক স্থান আছে যেখানে আপনি ঘুরতে পারেন, যেমন চাপাইনবাবগঞ্জ শহর, পুটিয়া রাজবাড়ি, পদ্মা সেতু এতদ্বিগুণ অন্যান্য। রাজসাহী ভ্রমণ করার জন্য আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য এবং গাইডের সাহায্য নিতে পারেন, যাতে আপনি সঠিকভাবে এই স্থানগুলি ভ্রমণ করতে পারেন।

খুলনা বিভাগ :  

খুলনা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে অবস্থিত। খুলনা শহর সাম্প্রতিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। খুলনা জেলায় অনেকগুলি আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে, যেমন:

ষাট গম্বুজ মসজিদ: শাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত মসজিদ এবং ইসলামিক স্থাপত্যের একটি স্মরণস্থল। এটি শাট গম্বুজ সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য বিচারে নামকরণ করা হয়েছে।

খুলনা জেলা সমাজ কল্যাণ কেন্দ্র: এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ছবির কলেকশন সংগ্রহশালা হিসাবে পরিচিত। এখানে আপনি খুলনা জেলার সমাজ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিচিতির সম্মানিত অবদান পাবেন।

খুলনা বিজয় স্তম্ভ: খুলনা বিজয় স্তম্ভ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণস্থল হিসাবে পরিচিত। এটি মুক্তিযুদ্ধের জয়ের উদযাপনে স্থাপিত হয়েছে এবং ভূমিকা পালন করে নায়ক সারোয়ার জাহান চৌধুরী।

ষাট গাম্বুজ বিশ্ববিদ্যালয়: খুলনা জেলায় অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা শহরের বাইরে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ বাংলাদেশের প্রথম সহযোগিতাযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত।

মাঙ্গলবারিয়া স্বামীবাগান: খুলনা জেলার কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক বাগান। এখানে আপনি বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, বৃক্ষ, উদ্যান পর্যটন করতে পারেন।

শৈল্পাচার্য জসিম উদ্দিন স্মৃতি সংগ্রহশালা: খুলনা জেলার রুপসা উপজেলায় অবস্থিত একটি স্মৃতি সংগ্রহশালা। এটি খুলনা জেলার স্থানীয় শিল্প ও শিল্পীদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত।

খুলনা রমনদী পার্ক: এটি খুলনা শহরের একটি প্রশস্ত উদ্যান এবং বিনোদন স্থল। এখানে আপনি বোট রাইড, সাইকেল চালানো, গামেস খেলা ইত্যাদি উপভোগ করতে পারেন।

এছাড়াও, খুলনা জেলার অন্যান্য স্থান যেমন মোয়না মহাবিহার, শিল্প উদ্যান, আব্দুল কাদের খান চৌধুরী জামে মসজিদ, লালবাগ ফুল বাগান ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

সিলেট বিভাগ : 

সিলেট বাংলাদেশের একটি প্রমুখ শহর এবং এটি সিলেট বিভাগের প্রশাসনিক কেন্দ্র। সিলেট ভ্রমণের জন্য কিছু জায়গা বিশেষভাবে পরামর্শ করা হতে পারে:

শাহজালাল মাজার : সিলেট শহরটির একটি প্রধান আকর্ষণীয় স্থান হল শাহজালাল মাজার। এটি মাওলানা শাহজালাল রহমতুল্লাহ এর মাজার এবং বিশ্বব্যাপী অলসিদ্দিন এর সংস্কারস্থান। এটি ইসলামিক সন্ধানের গঠন সম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

মাধবকুন্ড:  এটি অত্যন্ত সুন্দর জলপ্রপাত যা সিলেট শহরের নিকটস্থ একটি পর্যটন স্থল। এটি জনপ্রিয় একটি পিকনিক স্পট এবং দীর্ঘদিন ভ্রমণের জন্য আদর্শ একটি স্থান।

বিছানাকান্দি: এটি সুন্দর পর্যটন স্পট যা সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে আপনি মাছ ধরতে পারেন, নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন এবং সুন্দর সমুদ্র দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।

রাতারগুল:  এটি স্বর্গীয় স্থান যা নয়টা প্রাকৃতিক ঝর্ণার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি সিলেট শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে আপনি পানির মাঝে বাড়ীর ওপরে থাকা প্রাকৃতিক ঝোপ উপভোগ করতে পারেন।

সুনামগঞ্জ হিলস বিদ্যুৎ খনিজ পাহাড়যা সিলেট বিভাগে অবস্থিত এবং পর্যটনের একটি জনপ্রিয় স্থান। এটি অনেকটা হিমালয়ের দিকের মতো দেখতে।

এই ছয়টি জায়গার সাথে আরও অনেক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে সিলেটে, যা আপনার ভ্রমণকে অনেক আরো মজার করতে পারে।

এছাড়াও সেন্টমার্টিন , বান্দররবন , রাঙ্গামাটি  , কক্সবাজার  প্রত্যেক টা জেলা- উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভ্রমণ এর স্থান সমূহ । একজন ভ্রমণ পিপাসুর জন্য আমার মনে হয় বাংলাদেশ কোন অংশে কম নয় । প্রকৃতিক সুন্দয্যে ভরে আছে বাংলার প্রতিটি কোণা। এভাবে বলতে গেলে আমাদের এ ছোট্ট দেশের ভ্রমণ এর জায়গার তালিকা করে শেষ করা যাবে না । 

 

আরো ব্লগ পড়তে এইখানে ক্লিক করুন ।

 

Name : Nowraj jahan Naziya 

YSSE , CWD .